রিয়াদের যাত্রী জেদ্দা হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে সৌদিয়া এয়ারলাইনস

সংগৃহীত ছবি
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীদের হামলার পর সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রিয়াদের কিং খালেদ আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর কার্যক্রম ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় ঢাকা-রিয়াদ রুটে আটকেপড়া যাত্রীদের রিয়াদের বদলে জেদ্দা বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছে সৌদিয়া এয়ারলাইনস।
এর আগে রিয়াদের যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে ১১ অক্টোবর থেকে কখনো জেদ্দা, কখনো দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালিয়েছিল। ২০ অক্টোবর থেকে ঢাকা-জেদ্দা রুটে নিয়মিত একটি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালাচ্ছে এই এয়ারলাইনস। রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকা পর্যন্ত এভাবেই চলতে পারে।
ঢাকা-জেদ্দা রুটে সপ্তাহে ১৪টি অর্থাৎ দিনে দুটি ফ্লাইট চালায় সৌদিয়া এয়ারলাইনস। ঢাকা-রিয়াদ রুটে চলতো সপ্তাহে ৯টি ফ্লাইট। এখন রিয়াদের বদলে এই ফ্লাইট জেদ্দা রুটে চলছে। অর্থাৎ দিনে গড়ে তিনটির বেশি ফ্লাইট চলছে ঢাকা-জেদ্দা রুটে। যাত্রী চাপ বেশি হলে বড় উড়োজাহাজ দিয়েও যাত্রী পরিবহন করছে। তবে রুট পরিবর্তনের কারণে যাত্রীদের দিতে হচ্ছে না বাড়তি মাশুল। নির্দিষ্ট তারিখেই ভ্রমণ করতে পারছেন তারা।
যাত্রী চাপ সামলাতে পূজার ছুটিতেও ঢাকার দুটি অফিস খোলা রেখেছে সৌদিয়া এয়ারলাইনস। এরফলে নির্বিঘ্ন সেবা পাচ্ছেন যাত্রীরা। মাশুলের বিষয় না থাকায় অফিসে না এসেও সার্ভিস পেয়ে যাচ্ছেন যাত্রীরা।
যাত্রী রশিদুল আলমের ভাষ্য, ‘রিয়াদের নির্ধারিত ফ্লাইট তারিখেই আমি জেদ্দা যেতে পারছি। ফলে ভিসা মেয়াদ শেষের যে ঝুঁকি ছিল সেটিও আর নেই।’
সৌদি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই অবস্থায় রিয়াদগামী ফ্লাইটের যাত্রীরা বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন। দেশীয় এয়ারলাইনস অফিসে প্রতিদিন যাত্রীরা ভিড় জমাচ্ছেন টিকিট নিশ্চিত করতে।
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যেতে সবেচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে দেশিটর রাষ্ট্রীয় বিমানসংস্থা সৌদিয়া এয়ারলাইনস। ঢাকা থেকে সরাসরি রিয়াদ, জেদ্দা, মদিনা রুটে সপ্তাহে ফ্লাইট চালায় এয়ারলাইনসটি। সপ্তাহে ২৭ ফ্লাইটে তাদের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ১১ হাজার।
সৌদিয়া এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (বিজনেস সাপোর্ট) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানালেন, ২০ অক্টোবর থেকে রিয়াদের যাত্রীদের জন্য দিনে একটি বাড়তি ফ্লাইট জেদ্দা রুটে চালাচ্ছি। এতে যাত্রীর চাপ আমরা ভালোভাবেই সামলাতে পেরেছি। রিয়াদগামি যাত্রীদের মধ্যে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে জেদ্দামুখি ফ্লাইটে তুলে দিচ্ছি। এরফলে অভিবাসী শ্রমিকরা বেশ খুশি।
তিনি জানালেন, ১০ অক্টোবরের পর রিয়াদ থেকে ঢাকামুখি আটকেপড়া বিপুল যাত্রীদেরও আমরা হোটেল-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এরপর নিরাপদে দেশে ফেরত এনেছি। যেহেতু টিকিট পরিবর্তনের মাশুল নেই তাই যাত্রীদের দুবার এয়ারলাইনস অফিসে আসতে হচ্ছে না। প্রথমবার আসার পর ফোন নম্বর রেখে দিচ্ছি। পরে ফোনেই সেবা দিচ্ছি।
১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১২৬টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে, এতে ১৯ হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন।



