চবিতে ব্রাজিলকে বিষণ্ন বিদায়

ছবি: আগামীর সময়
নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল। হেক্সা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার সেই বেদনাময় রাতের সাক্ষী হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসও। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বরাবরের মতো শহীদ মিনার চত্বরে বড় পর্দায় খেলা দেখতে জড়ো হয়েছিলেন শিক্ষকসহ হাজারো ছাত্র-ছাত্রী। ম্যাচের শুরুতে ছিল উচ্ছ্বাস, মাঝপথে উদ্বেগ আর শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে পুরো চত্বর জুড়ে নেমে আসে বিষাদের নীরবতা। প্রিয় দলের বিষণ্ন বিদায়ে অনেক ব্রাজিল সমর্থককে গড়িয়ে কাঁদতে দেখা গেছে।
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের তর্কাতর্কি, খুনসুটি আর উচ্ছ্বাসমুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস। আবাসিক হল, ঝুপড়ি, খেলার মাঠ, ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম— সবখানেই চলছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের বাদানুবাদ। ব্রাজিলের বিদায়ে ক্যাম্পাসের সবচেয়ে প্রাণবন্ত ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতারও যেন ইতি ঘটল।
খেলা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে নেমে আসে অদ্ভুত নীরবতা। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে ‘ব্রাজিল, ব্রাজিল’ ধ্বনিতে মুখর ছিল পরিবেশ, সেখানে দেখা যায়, কান্নাভেজা মুখ সুনসান নীরবতা। ব্রাজিল সমর্থক মিন্টু দাস বললেন, ‘পেনাল্টি মিস করায় ব্রাজিলকে শেষ করে দিল। নেইমারের জন্য খারাপ লাগছে। আমরা দ্বিগুণ শক্তিতে ফিরে আসব। আগামী বিশ্বকাপ হবে ব্রাজিলের।’
প্রতিউত্তরে পাশে থাকা আর্জেন্টিনা সমর্থক মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আশফাক খোঁচা মেরে বললেন ‘টানা ছয়বার বিশ্বকাপ না জিতে বিদায়ের হেক্সা মিশন পূরণ করেছে ব্রাজিল। এতদিন ব্রাজিল বন্ধুরা বলত 'হেক্সা আসছে'। এখন মনে হচ্ছে, সেই হেক্সা গুগল ম্যাপেই পথ হারিয়ে ফেলেছে।’
এক রাতেই বদলে গেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল আবহ। এতদিন যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্যাম্পাসকে রাত জাগিয়ে রেখেছিল, ব্রাজিলের বিদায়ে তা অনেকটাই একপেশে হয়ে গেছে। এখন ক্যাম্পাস জুড়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিপুল উচ্ছ্বাস থাকলেও, ব্রাজিল সমর্থকদের চোখের জল বলে দিচ্ছে— এই বিশ্বকাপ ভেঙে দিল নীল-হলুদের সমর্থকদের হেক্সার স্বপ্ন।
এ ছাড়া, বড় পর্দায় দেখতে শহরের কাজীর দেউড়ি মোড়, ২ নম্বর গেট, হালিশহর, চকবাজারসহ অনেক স্হানেই জড়ো হয়েছিল ব্রাজিল সমর্থকরা। খেলা শেষে সবখানেই প্রিয় দলের বিদায়ে আবেগাপ্লুত সমর্থকরা। বৃষ্টির জল চোখের জলে একাকার।




