চট্টগ্রাম মেডিকেলে ৩ হোস্টেল নির্মাণ, টিলা কাটার অভিযোগ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হোস্টেল নির্মাণ করা হচ্ছে
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি হোস্টেল নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তিনটি হলে এক হাজার ২০০ এর বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।
তবে ছাত্রাবাস নির্মাণ করতে গিয়ে টিলা ও গাছপালা কাটার অভিযোগও উঠেছে নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে। প্রধান ছাত্রাবাসের পূর্বপাশে এই টিলা কাটা হয়।
চট্টেশ্বরী সড়ক গোয়াছি বাগান এলাকার প্রধান ছাত্রাবাসের পাশে ছাত্রদের হোস্টেল নির্মাণের জন্য টিলা ও গাছপালা কাটা হয়।
মঙ্গলবার রাতে টিলা কাটার পর মাটি ট্রাকযোগে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়। দুই তিন মাস আগে একই স্থানে অন্তত পাঁচটি বড় গাছসহ বেশকিছু গাছপালা কেটে ফেলা হয়।
শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ (এইচইডি) এই ছাত্রবাস ও ছাত্রীনিবাস নির্মাণ করছে। এরমধ্যে গোয়াছিবাগানে প্রধান ছাত্রাবাস সংলগ্ন হোস্টেলটি হবে ১৫ তলা বিশিষ্ট। এটি ছাত্রদের জন্য। ছাত্রীদের জন্য স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় নির্মিত হবে দুটি ৮ তলা বিশিষ্ট হোস্টেল। তিনটি হোস্টেলে প্রায় এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থী থাকতে পারবে বলে জানা গেছে।
গোয়াছি বাগান এলাকায় মেডিকেল প্রধান ছাত্রাবাসটি লাগোয়া পূর্ব পাশে নতুন ১৫ তলা ভবনটি নির্মাণ হচ্ছে। এর আগে প্রধান ছাত্রাবাসের পশ্চিম পাশে নতুন বার্ন হাসপাতাল নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটা হয়। ওই পাহাড়ের একটি টিলাকৃতির অংশ পূর্বপাশ পর্যন্ত বিস্তৃত। ওই টিলাটি কেটে নতুন ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে আজ বুধবার সকালে দেখা গেছে, টিনের উঁচু ঘেরা দিয়ে ভেতরে টিলাটি কাটা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এটা কাটা হয়। রাতে ট্রাকযোগে মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। সকালে রাস্তায় মাটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, টিলাটির বেশিরভাগ অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। একপাশে রাখা আছে কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি স্কেভেটর।
স্থানীয় এক ভাসমান দোকানদার জানান, কয়েকদিন ধরে পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। এর পর মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো প্রধান ছাত্রাবাসের একাংশ অর্থাৎ ই ব্লক ভেঙে ফেলা হয়। এইচইডি এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন জানান, প্রায় ৪৫ শতক জায়গাজুড়ে ভবনটি হবে।
টিলা কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে আলতাফ হোসেন বলেন, ‘ওখানে টিলা ছিল না। টিলার দিকে আমরা যাচ্ছি না। টিলার বাইরে ভবন হবে। আগে গাছপালা কাটার পর পরিবেশ অধিদপ্তর আমাদের ডেকেছিল। নোটিশ দিয়েছিল। আমি পরিবেশ পরিচালকের সঙ্গে দেখা করেছি। পাহাড় কাটা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছি। বর্তমানে পাইলিং হচ্ছে। তাই মাটি রাস্তাঘাটে পড়েছে।’
জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান বললেন, ‘তাদের নোটিশ করেছিলাম। জায়গাটি আমরা পরিদর্শন করেছিলাম। ওটার শ্রেণি পাহাড় বা টিলা নয়। তবে দৃশ্যমান একটা টিলা রয়েছে।’
পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমির শ্রেণি যা হোক দৃশ্যমান পাহাড় থাকলে সেখানে ভবন নির্মাণ করা যাবে না। নকশাও দেওয়া যাবে না বলে ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন জানান।
জানা গেছে, ১৯ মাসের মধ্যে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস প্রকল্প শেষ করার কথা ছিল। তবে কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ায় ভবন নির্মাণ শেষ করতে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে এইচইডি সূত্র জানায়।
ছাত্রাবাস নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২ কোটি টাকা। দুটি ছাত্রীনিবাসের ব্যয় ৫৯ কোটি টাকা।
মেডিকেলে প্রতিবছর প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। হোস্টেল নির্মাণ হয়ে গেলে আবাসন সমস্যার সমাধন হবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪০০ জন ছাত্রাবাসগুলোতে থাকতে পারবে।
কলেজ অধ্যক্ষ জসিম উদ্দীন বলেন, ‘হোস্টেলগুলো নির্মাণ হলে আবাসন সংকট থাকবে না। নির্মাণকাজের শুরুতে গাছপালা কাটা গিয়েছিল কিছু। এ নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে।’



