সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ, গতিহীন জেলেদের জীবন

ছবিঃ আগামীর সময়
বিকেলের সূর্যের
আলো পড়ছে কর্ণফুলী নদীর
জলে। ফিশারিঘাটে নোঙর করা সারি সারি ট্রলার।
জোয়ারের পানিতে ট্রলারের গায়ে ঢেউ আছড়ে
পড়ছে নিয়মিত বিরতিতে। তবে চেনা কোলাহল
নেই কোথাও। নেই বরফ ভাঙার
শব্দ, নেই ঝুড়ি ভরে
মাছ নামানোর ব্যস্ততাও।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে
৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।
ফলে চট্টগ্রামের উপকূলঘেঁষা মৎস্যপল্লীগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন গতিহীন।
চট্টগ্রামে নিবন্ধিত জেলে ৩ হাজার
৩৭৫ জন। নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের রেশন দেওয়া হয় দুই কিস্তিতে। এর মধ্যে ৮৬ কেজি
চাল, ১০ লিটার ভোজ্যতেল, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
গত কয়েক মাস ধরেই
চাপে জেলেরা। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও
সরবরাহ সংকটে সমুদ্রে যেতে খরচ বেড়েছে
তাদের। এর সঙ্গে আড়তদারদের দাদনের (অগ্রিম নেওয়া টাকা) চাপ যোগ হয়ে
অনেক ট্রলার মালিক ও জেলে লোকসানে।
সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই শুরু হলো
দীর্ঘ এ বিরতি।
ফিশারিঘাটে একটি ট্রলারে লেগে
থাকা কাদা পরিষ্কার করছিলেন
জেলে আকাশ জলদাস। দীর্ঘদিনের
অভিজ্ঞতার ছাপ তার চেহারায়
স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, ‘সাগর
থেকে কখনো খালি হাতে ফিরছি
না। কিন্তু এখন টানা দুই
মাস বসে থাকতে হবে।
এই চিন্তাটা বেশি কষ্টদায়ক।’
নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্রে যাওয়া বন্ধ থাকলেও জেলেদের
ব্যয় থেমে নেই। সংসারের
খরচ, ঋণের কিস্তি- সবকিছুই
চলমান। ফলে আয় বন্ধ
থাকায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে তাদের।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা সাধারণত ব্যস্ত থাকেন ট্রলার ও জাল মেরামতের
কাজে। তবে কাজের ফাঁকেই ফিরে আসে সংসারের
চিন্তা।
চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট ও আনন্দবাজার এলাকার
মৎস্যজীবীরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তা
সময়মতো পাওয়া জরুরি। অতীতে চাল সহায়তা দেওয়া
হলেও তা পেতে দেরি হয়েছে। এ
বছর তারা চালের পাশাপাশি
নগদ অর্থ সহায়তার দাবি
জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের জেলা মৎস্য বিভাগ
ও কোস্টগার্ড জানায়, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে কঠোর অবস্থানে থাকবে
তারা। প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরায় বিরতি
দিলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন বাড়বে। এতে উপকৃত হবেন জেলেরা।

