অনিয়ম-অর্থ আত্মসাৎ
চট্টগ্রাম ক্লাবের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

সংগৃহীত ছবি
প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো ব্রিটিশের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ‘চট্টগ্রাম ক্লাব’। বনেদি ব্যবসায়ী, কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব আর অভিজাত পরিবারের সদস্যদের মিলনকেন্দ্র। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘসময় পার করে বড়ো ধরনের অভিযোগের মুখে পড়ল ক্লাবটি। তহবিল আত্মসাৎ, বারে মদ কেনা-বেচার টাকা হাতিয়ে নেওয়া, স্বেচ্ছাচারী আচরণসহ একগুচ্ছ অভিযোগ এনে ক্লাবের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকে দিলেন সিনিয়র এক সদস্য।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মহিদুল ইসলামের আদালতে মামলাটি করেছেন ব্যবসায়ী মোরশেদ আরিফ চৌধুরী।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, ক্লাবের ২০২৫ সালের কার্যকরী কমিটির চেয়ারম্যান শোভন এম শাহাবুদ্দিন রাজ, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সৈয়দুল আনোয়ার ফারহাদ, জেনারেল কমিটির সদস্য (বার ইনচার্জ) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সেক্রেটারি অবসরপ্রাপ্ত কমান্ডার মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন এবং চিফ ফিন্যান্স অফিসার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন চৌধুরী।
বাদীর আইনজীবী অলক কান্তি দাশ আগামীর সময়কে বললেন, ‘আদালত মামলা আমলে নিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় বাদীর জবানবন্দিও গ্রহণ করেছেন। তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার ধার্য তারিখ ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।
দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪০৮, ৫০৬ (২) ও ৩৪ ধারায় করা মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দায়িত্ব পালনের সময় পরস্পর যোগসাজশে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের হোটেল রেডিসন ব্লু শাখায় ক্লাবের হিসাব থেকে ৩৪ লাখ ২ হাজার ৩৩০ টাকা তুলে নেন। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই যৌথ স্বাক্ষরে এই টাকা তোলা হয়। কিন্তু সেটা ক্লাবের কাজে ব্যবহার না করে আত্মসাৎ করা হয়।
ক্লাবের বার শাখায় নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করে এতে বলা হয়েছে, নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে ক্লাবে ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৯ টাকার মদ বিক্রি করা হয়। কিন্তু এ বিপুল পরিমাণ মদ সংগ্রহের কোনো বৈধ লাইসেন্স বা কাস্টমস শুল্ক পরিশোধের প্রমাণ নেই। এছাড়া মদ কেনা-বেচার বৈধ চালান, নথিপত্রে কোনো হিসাব সংরক্ষণ করা হয়নি।
আরজিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্লাবের প্রত্যেক সদস্যের বকেয়া ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে পরিশোধের কথা। কিন্তু মেম্বার বার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন তার বকেয়া পরিশোধ না করেই ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নেন।
অভিযোগকারী মোরশেদ আরিফ চৌধুরী আগামীর সময়কে বললেন, ‘ক্লাবের সদস্য হিসেবে অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার আমার আছে।’




