নিহত সন্ত্রাসী বাবলার বাসায় অভিযান, মার্কিন অস্ত্র উদ্ধার

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামে আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিরোধে খুন হওয়া সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলার বাসার পাশ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে র্যাব। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, র্যাব নিহত বাবলার বাসায়ও অভিযান চালিয়েছে। যদিও বিষয়টি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের হাটহাজারী ক্যাম্পের একটি টিম।
র্যাবের ভাষ্য, খন্দকারপাড়া এলাকায় জনৈক আব্দুল কাদেরের বসতঘরের দেয়ালের সঙ্গে লাগানো হাসনাহেনা ফুল গাছের নিচ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্রটি পাওয়া গেছে। আমেরিকার তৈরি ৭ দশমিক ৬৫ ক্যালিবারের পিস্তলটির সঙ্গে ১টি ম্যাগাজিন ও ৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি পাওয়া গেছে। অভিযানের সময় উপস্থিতি টের পেয়ে ২-৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পালিয়ে যায় বলে র্যাবের দাবি।
একদল সন্ত্রাসীর অবস্থানের তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়েছিল বলে জানালেন র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এএসপি এ আর এম মোজাফফর হোসেন। বললেন, ‘অভিযানের বিষয়টি বুঝতে পেরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে। একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রটির উৎস এবং এর মালিক কে, সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
র্যাব যার বসতঘরের পাশ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করেছে, সেই আব্দুল কাদের নিহত বাবলার বাবা বলে এলাকার লোকজনের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফেসবুকে পাওয়া ভিডিওতে বসতঘরের ভেতরও অভিযান চালাতে দেখা গেছে র্যাবকে। বাসার ভেতর থেকে একটি ব্যাগ নিয়ে যেতে দেখা গেছে একজন র্যাব সদস্যকে।বাবলার পরিবারের এক সদস্য অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর জন্য অস্ত্রটি তাদের বাড়ির পাশে রাখা হয়। এরপর র্যাবকে খবর দিয়ে সেটি উদ্ধার করানো হয়।
অভিযানের সার্বিক বিষয়ে জানতে র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমানের মোবাইলে কল দেওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন অভিযান পরিচালনাকারী র্যাব কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জেনে নেওয়ার তাগিদ দেন। অভিযানে যাওয়া কর্মকর্তাকে বারবার কল করা হলেও সাড়া দেননি।
বাবলা বিদেশে পলাতক দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই বাহিনী ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর নগরীর হাজীপাড়ায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে খুন করে সন্ত্রাসীরা।
বড় সাজ্জাদের সঙ্গে বিরোধের কারণে বাবলাকে প্রাণ দিতে হয় বলে ভাষ্য এলাকার লোকজনের। হত্যাকাণ্ডের আট মাস আগেও বাবলাকে প্রাইভেট কারে গুলি ছুড়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল সন্ত্রাসীরা। তবে সেই যাত্রায় তিনি প্রাণে বেঁচেছিলেন।





