প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানকে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণ!

ছবি: আগামীর সময়
যিনি গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চিরতরে চোখ বুজেছেন, সাবেক সেই মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানকে আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত আসরে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসনে জয়ী হয়ে এখন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরই সন্তান সাঈদ আল নোমান।
মন্ত্রণালয়ের এমন নজিরবিহীন ও চরম দায়িত্বহীনতার বিপরীতে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে নিজের ডেস্কে প্রয়াত বাবার নামের সেই আমন্ত্রণপত্রটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া তার একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা তৈরি করেছে।
ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান লিখেছেন, ‘আজ ১৭ জুন আমার জীবনের বড় এক বিমূর্ত প্রাপ্তির দিন। অধিবেশন চলাকালীন এ মুহূর্তটি আমাকে দারুণভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। আমার ডেস্কে একটি দাওয়াতপত্র পৌঁছাল, যেখানে “আবদুল্লাহ আল নোমান” নামটি লেখা।’
মন্ত্রণালয়ের এই মারাত্মক প্রশাসনিক ভুলকে এক অন্য অনুভূতির চশমায় দেখে তিনি আরও লেখেন, ‘হয়তো এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল। কিন্তু অনুভূতির জগতে এর অর্থ একেবারেই অন্য রকম। আমার মনে হলো, জাতীয় সংসদ এখনও বিশ্বাস করে—‘আবদুল্লাহ আল নোমান’ সংসদে উপস্থিত আছেন; তিনি এখনও বেঁচে আছেন মানুষের স্মৃতিতে, তাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অনুভূতিতে। আর এ ভাবনাই আমাকে বারংবার উঠে আসা সেই একই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়—মৃত নোমান কি জীবিত নোমানের চেয়েও শক্তিশালী? উত্তর নিঃসন্দেহে “হ্যাঁ”!’
বাবার মৃত্যুর পরও তাঁর নামে এমন রাষ্ট্রীয় চিঠি আসায় ক্ষোভের চেয়ে বাবার প্রতি সহকর্মীদের অবচেতন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার দিক হিসেবেই দেখছেন তিনি।
অনুভূতির জায়গাটি আবেগের হলেও, ঘটনাটি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ডেটাবেজ আপডেট না থাকা এবং চরম প্রাতিষ্ঠানিক খামখেয়ালিপনাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠেয় একটি রাষ্ট্রীয় টুর্নামেন্টের দাওয়াতপত্র দেওয়ার আগে বর্তমান সংসদ সদস্যদের তালিকাটুকুও যাচাই করার প্রয়োজন মনে করেনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একজন জাতীয় পর্যায়ের নেতা মারা গিয়েছেন। সেখানে নতুন আরেকজন নির্বাচিত হয়ে সংসদে যোগ দেওয়ার পরও দেড় বছর আগের মৃত ব্যক্তির নামে চিঠি পাঠানোকে চরম প্রশাসনিক অপেশাদারিত্ব বলছেন খোদ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও।
প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমান বিএনপির রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও তিনি চট্টগ্রামের ডবলমুরিং-হালিশহর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি জিততে পারেননি। ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে হামলার শিকার হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তার জীবনাবসান হয়।





