নদভীর কাঁধে এবার ‘জুলাই আন্দোলনে’ মাদ্রাসাছাত্র হত্যা মামলা

আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভী
চব্বিশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে চট্টগ্রামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিহতের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশ তাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দুজন সাবেক কাউন্সিলরকেও গ্রেপ্তারের আবেদন করেছিল। আদালত তাতে সাড়া দেননি। চারজনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
আজ বুধবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহিদুল ইসলাম পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন।
নিহত মাদ্রাসাছাত্র হলেন নিজাম উদ্দিন (২১)। তিনি নগরীর কোতোয়ালী থানার খলিফাপট্টি এলাকার মোহাম্মদ সুরুজ মিয়ার ছেলে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই সুরুজ মিয়া তার ছেলেকে হত্যার অভিযোগে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, নিজাম নগরীর বাকলিয়ার শান্তিনগর এলাকায় একটি মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্ট দুপুরে নগরীর লালদিঘীর পাড়ে ছাত্র-জনতার সমাবেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মামলায় সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও তার ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী, চসিকের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী ও শৈবাল দাশ সুমনসহ ৩৫ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী আগামীর সময়কে জানালেন, মামলার এজাহারে নদভীর নাম ছিল না। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা নদভীসহ চারজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত নদভী ও তৌহিদুল ইসলাম ফরিদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। তারা কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজিরা দেন।
এছাড়া চসিকের সাবেক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক ও জহুরুল আলম জসীমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নাকচ করে দেন আদালত।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর তাকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মিলিয়ে অন্তত ১৮ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। জামায়াত ঘরানা থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি দুই দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও দুই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন আছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণ করে আলোচনায় আসেন ‘যুবলীগ ক্যাডার’ তৌহিদুল ইসলাম ফরিদ। ২০২৪ সালের ২৩ নভেম্বর তাকে ভারতে পালানোর পথে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অন্তত এক ডজন মামলা আছে। এছাড়া চসিকের সাবেক দুই কাউন্সিলরও একাধিক মামলার আসামি হয়ে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে আছেন।



