চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের প্রত্যাশিত ফল নিয়ে সংশয় অর্থমন্ত্রীর

কথা বলছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
প্রকল্পে অর্থের অপচয় বন্ধে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের তাগিদ দিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সমন্বয় না থাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর টাইগারপাসে নগর ভবনে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে যুক্ত সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী একথা বললেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এ সভার আয়োজন করে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বললেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতার সমস্যা বহুদিনের। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের সামষ্টিক সমাধানের দিকে যেতে হবে। সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর, বিদ্যুৎ বিভাগসহ আরও যারা স্টেকহোল্ডার আছে সবাই মিলে রেগুলার রিভিউ করতে হবে। প্রতি মাসে একটা রিভিউ মিটিং করতে হবে অন্তত। সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে অর্থের অপচয় বন্ধ হবে। কাজগুলো কম সময়ের মধ্যে সুন্দরভাবে হবে।’
‘জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সামগ্রিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।’
চলমান জলাবদ্ধতা প্রকল্পে আরও তিনটি বিষয় যুক্ত করারও তাগিদ দিলেন মন্ত্রী, ‘তিনটা এলিমেন্ট আমরা যোগ করতে চাচ্ছি। যাতে একসাথে জলাবদ্ধতার সমাধান হয়। জনগণের হাঁটার ব্যবস্থা করতে হবে। সাইক্লিংয়ের সুযোগ তৈরি করতে হবে। শহরে গাছ লাগাতে হবে। একটা নান্দনিক পরিবেশ থাকতে হবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না জানিয়ে তিনি বললেন, ‘সমস্যার সামষ্টিক সমাধানের প্রকল্প নিয়ে আসতে হবে। তখন বরাদ্দ নিয়ে কোনো প্রশ্ন আসবে বলে আমি মনে করি না। চট্টগ্রামকে আমরা এই রিজিয়নের জন্য একটা লজিস্টিক সেন্টার হিসেবে গড়ে তুলতে যাচ্ছি। এটা হবে এই অঞ্চলের ইকোনমিক হাব। সেটা করতে হলে আগে আমাদের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করতে হবে।’
এ সময় চুয়েটের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো জবাব না দিয়ে বেরিয়ে যান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম শামস, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম ও জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
দুর্গাপূজা শুধু একটি সম্প্রদায়ের নয়, সার্বজনীন উৎসব
সিটি করপোরেশনের সভার আগে বিকালে অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর জেএম সেন হলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বললেন, ‘দুর্গাপূজা এখন আর শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব নয়। এটি বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এটি এখন বাংলাদেশের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। আমরা ছোটবেলা থেকেই পূজার আনন্দ-উৎসবে অংশ নিয়েছি। আমরা সবাই মিলে এমন একটি দেশ গড়তে চাই যেখানে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী নয়, সবাই সমান সুযোগ পাবে। সবার অংশগ্রহণে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বললেন, ‘প্রতিটি সমাজে কিছু দুষ্টু লোক থাকে। তারা যেন মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও ঐক্য নষ্ট করতে না পারে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।





