চসিক
৪৫ টাকা উন্নয়নে, বেতন বকেয়া মেটাতে ৩০
- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বাজেট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নতুন অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটের টাকা কোন খাতে কত টাকা এবং কী অনুপাতে ব্যয় হবে, তার একটি চিত্র পাওয়া গেছে বাজেটের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে। সিটি করপোরেশনের তহবিলের প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা ৮১ পয়সা খরচ হবে নগরের রাস্তাঘাট ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে। সংস্থাটির বিশাল জনবলের বেতন-ভাতা এবং পুরনো বকেয়া দেনা পরিশোধের পেছনেই চলে যাচ্ছে বাজেটের ২৯ টাকা ৪২ পয়সা। বছর শেষে করপোরেশনের হাতে উদ্বৃত্ত থাকবে ৩৫ পয়সা।
আজ মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করেন। অর্থবছর শেষে সিটি করপোরেশনের তহবিলে ৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা বাজেটে উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের নতুন অর্থবছরের সর্বমোট ২ হাজার ২৫২ কোটি ৩২ লাখ টাকার মূল ব্যয় বরাদ্দকে প্রতি ১০০ টাকার অনুপাতে ভাগ করলে প্রধান খাতগুলোর বাইরে বাকি চিত্র দাঁড়ায় এমন, স্থায়ী সম্পদ অর্জন ৭ টাকা ৫৭ পয়সা। ভাণ্ডার ও সরঞ্জাম খাতে ৫ টাকা ১৫ পয়সা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানি বিল পরিশোধে ৩ টাকা ৩৬ পয়সা। জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ২ টাকা ৩০ পয়সা। নাগরিক কল্যাণ, বিবিধ ও ত্রাণ খাতে ৬ টাকা ৪ পয়সা ব্যয় হবে।
চসিকের তহবিলের প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি খরচ হবে উন্নয়নমূলক কাজে, যার মোট অংক ১ হাজার ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি বার্ষিক কর্মসূচির অধীনে অনুদান প্রত্যাশা করা হয়েছে ৮২৫ কোটি টাকা এবং চসিকের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে সরাসরি অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে ব্যয় হবে ২১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
সিটি করপোরেশনের বিশাল জনবলের মূল বেতন, পারিশ্রমিক, উৎসব বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা মেটাতেই প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ২১ টাকা ২৭ পয়সা চলে যাবে। কোটি টাকার অংকে এই খাতের ব্যয় সর্বোচ্চ ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বিগত বছরগুলোর ঠিকাদারদের পাওনা এবং বিভিন্ন সংস্থার বকেয়া ঋণ মেটাতেই চসিককে প্রতি ১০০ টাকা থেকে কেটে রাখতে হচ্ছে ৮ টাকা ১৫ পয়সা। এই খাতে এবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
চসিকের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ভূমি ক্রয়, স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ কিংবা ভারী যন্ত্রপাতি ও আধুনিক আবর্জনা অপসারণের সরঞ্জাম কেনায় বরাদ্দ থাকছে ১৭১ কোটি টাকা। নগরের বিভিন্ন সেবামূলক কাজের নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ও প্রকৌশল সরঞ্জাম কেনাকাটায় ব্যয় হবে ১১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সড়ক বাতি সচল রাখা, ময়লা টানার গাড়ির তেল-গ্যাস এবং চসিকের নিজস্ব প্রশাসনিক পানি-গ্যাস বিল বাবদ খরচ হবে ৭৬ কোটি টাকা। নগরের রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও চসিকের নিজস্ব স্থাপনাগুলোর তাৎক্ষণিক ও জরুরি সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দ থাকছে ৫১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের কল্যাণমূলক ব্যয় ৩৯ কোটি টাকা, আপদকালীন ত্রাণ কার্যক্রম ৫৬ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খুচরা ও বিবিধ প্রশাসনিক খরচ ৪১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়সহ এই খাতের মোট বরাদ্দ ১৩৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে বিভাগভিত্তিক ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেতনের বড় অংশই চলে যাচ্ছে শিক্ষা বিভাগে, যেখানে মূল বেতন ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাসহ সিটি করপোরেশনকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ৬০ কোটি টাকা। এরপর প্রকৌশল বিভাগে ব্যয় হয় ২৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। পরিচ্ছন্নতা বিভাগে ব্যয় হয় ২৪ কোটি টাকা। অপরদিকে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে সর্বশেষ অর্থবছরে মোট ১১২ কোটি ২৮ লাখ ৮৮ হাজার ২২৫ টাকা ব্যয় হলেও, মূল কাজের চেয়ে যানবাহন ও আপ্যায়নেই খরচ হয়েছে বেশি। ময়লা টানতে যানবাহনের জ্বালানি বাবদ ২৭ কোটি টাকা, পার্টস ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা এবং কোরবানির ঈদের আপ্যায়নে প্রায় খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।





