চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসিতে ২১ বিদ্যালয়ে শতভাগ পাস, ফেল ৮ প্রতিষ্ঠানে

এসএসসি পরীক্ষার ফল হাতে পেয়ে উচ্ছাসে মেতে উঠেছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা- রনি দে, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছরের তুলনায় শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের এই অর্জনের পাশে শূন্য পাসের বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক লাফেই বেড়েছে সাতটি।
আজ সোমবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশে নিয়ে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ , যা গত বছরের ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশের চেয়ে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ কম।
সাফল্যের শীর্ষে যারা
শতভাগ পাস করা ২১টি প্রতিষ্ঠানের মোট ১ হাজার ৮৩৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিচারে শীর্ষে রয়েছে ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ; এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৭৭ জন অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের ২১৮, ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৯২, সিলভার বেলস গার্লস হাইস্কুলের ১৯০, হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৬৬, রামগড় পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৬১ এবং হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই কৃতকার্য হয়েছে।
শতভাগ পাসের তালিকায় আরও রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি), বাঁকখালী হাইস্কুল, নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টেকনো-সিডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল, গানার্স ইংলিশ স্কুল, ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়, চকরিয়া ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এবং লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ-চট্টগ্রাম।
এদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল বেশ কম। স্ট্যান্ডার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এক, বিকেএসপি থেকে চার, চকরিয়া ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল থেকে তিন, টেকনো-সিডার থেকে ১৭, গানার্স ইংলিশ স্কুল থেকে ১৯ এবং ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয় থেকে ২২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এমন সাফল্য প্রসঙ্গে হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আজিজুল হক নিজামী বলেছেন, ‘স্কুলে শিক্ষকসংকট রয়েছে। খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। তবে শিক্ষকরা যেমন আন্তরিক ছিলেন, শিক্ষার্থীরাও নিজেরা ভালো করে পড়াশোনা করে তা প্রমাণ করে দিয়েছে।’
অন্যদিকে ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রাবন্ধিক আবুল মোমেন শিক্ষকের দক্ষতার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, ‘দক্ষ শিক্ষক ছাড়া দক্ষ শিক্ষার্থী তৈরি সম্ভব নয়। শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে ভালো বেতন দিয়ে দক্ষ শিক্ষক ধরে রাখতে হবে, তা না হলে ইংরেজি ও গণিতের দুর্বলতা কাটানো যাবে না।’
দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোয় বিপর্যয়
শতভাগ পাসের উল্টো পিঠে রয়েছে আটটি বিদ্যালয়, যেখান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল মাত্র একটি।
শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশই পার্বত্য ও দুর্গম উপকূলীয় অঞ্চলের। এর মধ্যে ফটিকছড়ির নারায়ণহাট গার্লস হাইস্কুল থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়।
রাঙামাটির বরকলের আন্ধারমানিক (মাইছছড়ি) জুনিয়র হাইস্কুলে ১০ ও লংগদুর মহালছড়ি হাইস্কুলে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করেনি। এ ছাড়া সন্দ্বীপের উড়িরচর জুনিয়র হাইস্কুল থেকে ১০, খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৭, দীঘিনালার জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুল থেকে ১৯, দীঘিনালার তারাবানিয়া হাইস্কুল থেকে পাঁচ এবং বাঘাইছড়ির শিজক দজর বাজার জুনিয়র স্কুল থেকে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও সবাই ফেল করেছে।




