সেগুনবাগিচার ভুতুড়ে জগৎ

সেগুনবাগিচার দুই-একটি বাড়ি ঘিরে এখনো অতিপ্রাকৃত শক্তির আনাগোনার খবর মেলে
ঠিক দুপুর। চারপাশে এক ধরনের অলস নিস্তব্ধতা। তিনতলার একেবারে পুবের কামরাটায় ভাতঘুমে ডুবেছিলেন এক সদ্য তরুণ। হঠাৎই সেই গভীর ঘুম ভেঙে গেল।
প্রথমে বুঝতে পারলেন না কী হয়েছে। কিন্তু পরমুহূর্তেই বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। খাটটা কাঁপছে। না, শুধু কাঁপছে না… কেউ যেন অদৃশ্য হাত দিয়ে প্রবল শক্তিতে ঝাঁকিয়ে দিচ্ছে।
চোখ মেলে চারদিকে তাকালেন। রুমে তিনি ছাড়া আর কেউ নেই। দরজা বন্ধ। জানালাও স্থির। অথচ খাটের সেই দুলুনি ক্রমে বাড়ছে। এতটাই প্রবল যে মনে হচ্ছে, এখনই তিনি ছিটকে মেঝেতে পড়ে যাবেন।
মুহূর্তেই মাথায় এলো, ভূমিকম্প!
কিন্তু পরের মুহূর্তেই শরীরটা হিম হয়ে গেল।
না… এটা ভূমিকম্প নয়।
কারণ, খাট ছাড়া ঘরের আর কিছুই নড়ছে না। না টেবিল, না চেয়ার, না দেয়ালে ঝোলানো কিছু। সবকিছু অস্বাভাবিকভাবে স্থির। শুধু তার নিচের খাটটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে হিংস্র, অদৃশ্য কোনো শক্তির কবলে।
শরীর বেয়ে শিরশিরে একটা ঠান্ডা অনুভূতি নেমে এলো। গলা শুকিয়ে কাঠ। চিৎকার করতে চাইলেন, কিন্তু শব্দ বের হলো না।
কতক্ষণ এভাবে চলেছিল, তিনি কখনোই বলতে পারেননি। সময় যেন সেখানে থমকে গিয়েছিল।
হঠাৎ করেই… সব থেমে গেল।
খাটটা একেবারে নিস্তব্ধ। যেন কিছুই ঘটেনি।
এক ঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে দরজা খুলে দৌড়ে বেরিয়ে গেলেন তিনি। বারান্দা পেরিয়ে বড় কামরায় গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে চারদিকে তাকালেন।
সব স্বাভাবিক। অস্বাভাবিকভাবে স্বাভাবিক।
কেউ কিছু টের পায়নি। কারও মুখে বিস্ময় নেই, আতঙ্ক নেই। যেন ওই ঘটনার অস্তিত্বই নেই এই পৃথিবীতে।
এই ভুতুড়ে ঘটনাটা আজ থেকে বহু বছর আগের। যে বাড়িতে ঘটেছিল, সেটি অনেকেরই পরিচিত, অন্তত নামের দিক থেকে। কাজী মঞ্জিল। কাজী মোতাহার হোসেনের গড়া সেই পুরনো দালান, যেখানে পরে জায়গা করে নেয় পাঠকপ্রিয় সেবা প্রকাশনীর অফিস।
ঘটনার শিকার সেই তরুণ কাজী সরওয়ার হোসেন। কাজী আনোয়ার হোসেনের চাচাতো ভাই। তখন তাদের পরিবার থাকত ওই দালানের তৃতীয় তলায়, আর নিচের তলায় থাকত কাজী মোতাহার হোসেনের পরিবার।
কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন এবং স্থানীয় আরও দু-একজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে প্রায় অবিশ্বাস্য কিছু তথ্য পেলাম। কাজী মঞ্জিল থেকে শুরু করে বেশ কিছুটা পথ পেরিয়ে জব্বার সাহেবের বাড়ি পর্যন্ত ছিল অতিপ্রাকৃত শক্তিদের বড় ঘাঁটি। চাওর আছে, আকাশপথে কাজী মঞ্জিল থেকে ওই বাড়ি পর্যন্ত এ ধরনের শক্তির যাতায়াতের একটি রাস্তা ছিল।
রাতের এই অস্বাভাবিক চলাচল দেখতেই কাজী আনোয়ার হোসেনের ছোট ভাই কাজী মাহবুব হোসেন এক রাতে বাড়ির ছাদে ঘাঁটি গাড়লেন একাকী। গভীর রাতে তিনি বাসায় ফিরে এলেন হতবিহ্বল অবস্থায়। ভয়ানক কিছু একটা দেখেছিলেন। তবে কী সেটি, পরিষ্কারভাবে বলেননি। কেউ কেউ বলে, কালো পোশাকের একটি ভুতুড়ে ছায়ামূর্তির কথা।






