Agamir Somoy E-Paper
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
সচেতন করতে জহিরের দেয়াল লিখন
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • চট্টগ্রাম
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • চট্টগ্রাম
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় অতিপ্রাকৃত

সেগুনবাগিচার ভুতুড়ে জগৎ

ইশতিয়াক হাসান
ইশতিয়াক হাসান
agamir somoy
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১৩:১৩
সেগুনবাগিচার ভুতুড়ে জগৎ

সেগুনবাগিচার দুই-একটি বাড়ি ঘিরে এখনো অতিপ্রাকৃত শক্তির আনাগোনার খবর মেলে

ঠিক দুপুর। চারপাশে এক ধরনের অলস নিস্তব্ধতা। তিনতলার একেবারে পুবের কামরাটায় ভাতঘুমে ডুবেছিলেন এক সদ্য তরুণ। হঠাৎই সেই গভীর ঘুম ভেঙে গেল।

প্রথমে বুঝতে পারলেন না কী হয়েছে। কিন্তু পরমুহূর্তেই বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। খাটটা কাঁপছে। না, শুধু কাঁপছে না… কেউ যেন অদৃশ্য হাত দিয়ে প্রবল শক্তিতে ঝাঁকিয়ে দিচ্ছে।

চোখ মেলে চারদিকে তাকালেন। রুমে তিনি ছাড়া আর কেউ নেই। দরজা বন্ধ। জানালাও স্থির। অথচ খাটের সেই দুলুনি ক্রমে বাড়ছে। এতটাই প্রবল যে মনে হচ্ছে, এখনই তিনি ছিটকে মেঝেতে পড়ে যাবেন।

মুহূর্তেই মাথায় এলো, ভূমিকম্প!
কিন্তু পরের মুহূর্তেই শরীরটা হিম হয়ে গেল।
না… এটা ভূমিকম্প নয়।

কারণ, খাট ছাড়া ঘরের আর কিছুই নড়ছে না। না টেবিল, না চেয়ার, না দেয়ালে ঝোলানো কিছু। সবকিছু অস্বাভাবিকভাবে স্থির। শুধু তার নিচের খাটটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে হিংস্র, অদৃশ্য কোনো শক্তির কবলে।

শরীর বেয়ে শিরশিরে একটা ঠান্ডা অনুভূতি নেমে এলো। গলা শুকিয়ে কাঠ। চিৎকার করতে চাইলেন, কিন্তু শব্দ বের হলো না।

কতক্ষণ এভাবে চলেছিল, তিনি কখনোই বলতে পারেননি। সময় যেন সেখানে থমকে গিয়েছিল।
হঠাৎ করেই… সব থেমে গেল।

খাটটা একেবারে নিস্তব্ধ। যেন কিছুই ঘটেনি।

এক ঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে দরজা খুলে দৌড়ে বেরিয়ে গেলেন তিনি। বারান্দা পেরিয়ে বড় কামরায় গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে চারদিকে তাকালেন।

সব স্বাভাবিক। অস্বাভাবিকভাবে স্বাভাবিক।

কেউ কিছু টের পায়নি। কারও মুখে বিস্ময় নেই, আতঙ্ক নেই। যেন ওই ঘটনার অস্তিত্বই নেই এই পৃথিবীতে।

এই ভুতুড়ে ঘটনাটা আজ থেকে বহু বছর আগের। যে বাড়িতে ঘটেছিল, সেটি অনেকেরই পরিচিত, অন্তত নামের দিক থেকে। কাজী মঞ্জিল। কাজী মোতাহার হোসেনের গড়া সেই পুরনো দালান, যেখানে পরে জায়গা করে নেয় পাঠকপ্রিয় সেবা প্রকাশনীর অফিস।

ঘটনার শিকার সেই তরুণ কাজী সরওয়ার হোসেন। কাজী আনোয়ার হোসেনের চাচাতো ভাই। তখন তাদের পরিবার থাকত ওই দালানের তৃতীয় তলায়, আর নিচের তলায় থাকত কাজী মোতাহার হোসেনের পরিবার।

কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন এবং স্থানীয় আরও দু-একজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে প্রায় অবিশ্বাস্য কিছু তথ্য পেলাম। কাজী মঞ্জিল থেকে শুরু করে বেশ কিছুটা পথ পেরিয়ে জব্বার সাহেবের বাড়ি পর্যন্ত ছিল অতিপ্রাকৃত শক্তিদের বড় ঘাঁটি। চাওর আছে, আকাশপথে কাজী মঞ্জিল থেকে ওই বাড়ি পর্যন্ত এ ধরনের শক্তির যাতায়াতের একটি রাস্তা ছিল।

রাতের এই অস্বাভাবিক চলাচল দেখতেই কাজী আনোয়ার হোসেনের ছোট ভাই কাজী মাহবুব হোসেন এক রাতে বাড়ির ছাদে ঘাঁটি গাড়লেন একাকী। গভীর রাতে তিনি বাসায় ফিরে এলেন হতবিহ্বল অবস্থায়। ভয়ানক কিছু একটা দেখেছিলেন। তবে কী সেটি, পরিষ্কারভাবে বলেননি। কেউ কেউ বলে, কালো পোশাকের একটি ভুতুড়ে ছায়ামূর্তির কথা।

সত্যি বলতে, ওই সময়ের সেগুনবাগিচার পরিবেশ-পরিস্থিতির কথা চিন্তা করলে এ ধরনের অশুভ শক্তির উপস্থিতি তেমন অস্বাভাবিক নয়।

কালের কণ্ঠে চাকরি করার সময় ঈদসংখ্যার জন্য কাজীদার থেকে একটি লেখা নিয়েছিলাম। ‘সেগুনবাগিচা’ নামে ওই লেখায় কাজী আনোয়ার হোসেন জানান, তার জন্ম কাজী মঞ্জিলেই, ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই।

সেগুনবাগিচার অনেক বাড়ি ঘিরেই পুরনো দিনে নানা ধরনের ভুতুড়ে ঘটনার গল্প প্রচলিতওই সময়ের সেগুনবাগিচার বর্ণনা দিয়েছেন কাজীদা এভাবে… ‘সে সময়ে মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিঙের চিহ্নমাত্র ছিল না এই এলাকায়। আমাদের একতলা বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে পুবে তাকালে ফাঁকা মাঠের ওপারে বহুদূরে দেখা যেত পল্টন লাইনের বিশাল এক বয়োবৃদ্ধ বটগাছ… আর ছিল সেগুনবাগিচার অধুনালুপ্ত বিশাল জলাভূমি। এখন সেটি ভরাট করে কয়েকশ বহুতল ভবন তৈরি হয়েছে। দুই দিক থেকে পানি আসত এই জলাধারে। পশ্চিম দিক থেকে বুড়িগঙ্গার পানি আসত ধানমন্ডি লেক হয়ে কলাবাগানের মধ্য দিয়ে রমনা লেকে, সেখান থেকে পুবের রাস্তার নিচ দিয়ে বর্তমান শিল্পকলা একাডেমির বুক চিরে একটা পুরনো কালভার্টের নিচ দিয়ে। আরেকটা ধারা আসত পুরান ঢাকার মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে দক্ষিণ দিক থেকে। সেটারও উৎস ওই বুড়িগঙ্গাই।

বর্ষায় এই পানি মতিঝিল হয়ে কমলাপুর ছাড়িয়ে চলে যেত পুবের কোনো নদীতে। পঞ্চাশের দশকে এক বন্যায় আমার ছোট ভাই ও আমি কালভার্টের পাশে বেঁধে রাখা একটা নৌকায় করে চলে গিয়েছিলাম কমলাপুরে আমাদের বড় বোনের বাড়িতে। সন্ধের পর ওখান থেকে দাঁড় বেয়ে ফিরে আসতে যে কী কষ্ট হয়েছিল, তা আজও মনে আছে…।

রাতে হারিকেন ও টেঁটা (কোঁচ) নিয়ে সেগুনবাগিচার এই মস্ত জলাশয়ের হাঁটুপানিতে মাছ মারতাম আমি, আমার ছোটভাই নুরু (কাজী মাহবুব হোসেন) আর বাবু (রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী প্রয়াত জাহিদুর রহিম)।’

কাজীদার লেখা থেকেই জানি, তখন এই এলাকায় বাড়ি ছিল হাতেগোনা অল্প কয়েকটা। কালভার্টের দক্ষিণে দশ-বারোটা আর উত্তরে বড়জোর আট-দশটা। এখন আর সেই কালভার্টের অস্তিত্ব নেই। আজ যেখানে এজিবি আর অডিট অফিসের বারো-চৌদ্দ তলা বিশাল সব দালান, আগে সেখানে ছিল উলুখাগড়া ছাওয়া বড় বড় মাঠ... প্রায়ই কাজীদা এবং সঙ্গী-সাথিরা টর্চ ও লাঠি নিয়ে দল বেঁধে শেয়াল তাড়া করতেন। এখন যেখানে চিটাগং হোটেল, তার সামনে চমৎকার একটা পুকুর ছিল, মনের সুখে সাঁতার কাটতেন সে পুকুরে।

শুধু তাই নয়; সেগুনবাগিচার এক পুরনো বাসিন্দার মুখ থেকে শুনেছি, শ্মশানও ছিল এখানে। প্রতিটি বাড়িতে ছিল গাছপালার ঠাসবুনোট। সঙ্গে উলুখাগড়া বন মিলিয়ে পরিস্থিতি যে যথেষ্ট ভুতুড়ে, তাতে সন্দেহ নেই। সেই সঙ্গে অতিপ্রাকৃত শক্তির জন্য রীতিমতো আদর্শ।

ওই যে কাজী মঞ্জিল থেকে জব্বার সাহেবের বাড়ি পর্যন্ত জায়গা আর বাড়িগুলোর কথা বলেছি, তার একটি বাড়ি নিয়েও শোনা যায় রীতিমতো গা শিরশির করে দেওয়া কাহিনি। ওই বাড়িটা এখনো আছে। তবে কিছু সংস্কার ও নতুন রঙ চড়ায় আগের চেহারার লেশমাত্র নেই। ওই বাড়ি নিয়ে গল্প কম ছড়ায়নি। সেখানে বাস করেছেন এমন একজনের সূত্রেও পেয়েছি কিছু তথ্য।

কাজী মঞ্জিলের এই কামরাটিতেই বহু বছর আগে ভয় পেয়েছিলেন কাজী সরওয়ার হোসেন। ছবি: সাজ্জাদ হোসেননানা ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনাই ঘটত। হঠাৎ পানি পড়া, পায়ের আওয়াজ, বিচিত্র শব্দ, ছায়ার মতো কিছু ইত্যাদি। এক রাতে বাড়ির যিনি গৃহকর্ত্রী, তার খাটে বসে থাকতে দেখা যায় বিশাল ও ভয়ংকর একটা কিছুকে। কিছুটা মানুষের মতো, তবে আকারে দানবীয় ও কালো। মূলত গুজব ছিল, এই বাড়ির যিনি গৃহকর্ত্রী, তার সঙ্গেই কোনো একটি অতিপ্রাকৃত কিছুর আবাস।

এই বাড়ির সঙ্গেই ছিল একটা প্রেস বা ছাপাখানা। ওটা নিয়েও গল্প কম ছড়ায়নি। রাতের বেলা স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ থাকত প্রেস। কিন্তু বাড়ির দারোয়ান বলত, হঠাৎ করেই চলতে শুরু করত প্রেসের মেশিন। এই ঘটনা এত নিয়মিত ছিল যে সে চমকে যাওয়াও ভুলে গিয়েছিল। রাতে ছাপাখানায় মেশিন চলার শব্দ শুনেছে আশপাশের অনেক বাসিন্দাই।

এই বাড়ির ভুতুড়ে ঘটনার শেষ হয় খুব অস্বাভাবিকভাবে। বাড়ির কর্ত্রী সেই বৃদ্ধ নারীটি ওই সময় তার বাবার বাড়িতে ছিলেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তবে যে রাতে তার মৃত্যু হয়, সে রাতে তার সেই মূল বাড়িতে যেন ঝড় বয়ে যায়। প্রচণ্ড ক্রোধে কে যেন বাড়ির আসবাবপত্র এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুড়ে ফেলছিল দানবীয় শক্তিতে। থালা-বাসন ভাঙচুর করছিল।

নিজেদের কামরায় ঢুকে দরজা আটকে বসে দোয়া পড়ছিলেন বৃদ্ধার ছেলে, ছেলেবউ ও কর্মচারীরা। আর থরথর করে কাঁপছিলেন। তারপর একসময় সবকিছু থেমে শান্ত হয়ে গেল পরিবেশ। এই শেষ, বাড়ি বা ছাপাখানায় আর কখনো ভুতুড়ে কাণ্ড হয়নি।

আবার কাজী মঞ্জিলে ফিরে যাচ্ছি। পাশে ছিল নানা ধরনের গাছ। আর একটা ছাপড়া ঘরে ছিল সেবা প্রকাশনীর প্রেস। যখন এখানে বাড়ির কাজে হাত দেয়, তখন শ্রমিকরা নানা ধরনের অদ্ভুত ঘটনার কথা বলে। কেউ কেউ কাজ করতে ভয় পাচ্ছিল। মাথার ওপর দিয়ে কিছু উড়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক শব্দ এমন সব ঘটনার কথা বলত তারা।

সেগুনবাগিচার বিভিন্ন বাড়ি ঘিরেই অতীতে এমন অস্বাভাবিক ঘটনার গল্প আছে। কিন্তু এখন কি ঘটে না?

সে নজিরও আছে। সেগুনবাগিচার খুব পরিচিত একজনের বাড়িতে আমার একসময় খুব আনাগোনা ছিল। বাড়িটির মালিকদের অন্তত একজন বেশ রুচিশীল। তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার করলেও পুরনো চেহারা ধরে রেখেছেন। ভেতরে ঢুকলেই মনটা ভালো হয়ে যেত। বাড়ি ঘিরে হরেক গাছপালা। একটু পরপরই দৌড়ে এক পাশ থেকে আরেক পাশে চলে যাচ্ছে একটি-দুটি বেজি। ঠান্ডা, আরামদায়ক পরিবেশ ভেতরে। আমার সেখানে গেলেই মনে হতো, ঢাকার বাইরে মফস্বলের কোনো সবুজে ভরপুর বাড়িতে চলে এসেছি। আমার পরিচিত ওই ভদ্রলোকের মুখেই শুনেছিলাম, এই বাড়ি ঘিরে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে মাঝেমধ্যেই।

কাজী মোতাহার হোসেনের গড়া কাজী মঞ্জিল। ছবি: সাজ্জাদ হোসেনতো, এক সন্ধ্যার কথা। ওই বাড়ির তিনতলায় বসে আছি। যার কাছে গিয়েছি, তিনি নেমেছেন নিচের তলায় অতিথির জন্য নাশতা-পানি আনতে। চারপাশে অদ্ভুত এক নীরবতা, যেন শব্দগুলো কোথাও গিয়ে থমকে আছে। জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে আসা আলোয় ধুলোকণাগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে। আমি বসে আছি, হয়তো কিছু একটা ভাবছিলাম, ঠিক তখনই হঠাৎ একটা শব্দ হলো। খুব ছোট, কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে তীক্ষ্ণ। তারপর আরেকটা। এরপর যেন একসঙ্গে পাশের কামরাগুলো থেকে ধপ, ঠাস, কড়াৎ করে শব্দ ভেসে আসতে লাগল। মনে হচ্ছে, কেউ জোরে জোরে জানালা বন্ধ করছে, আবার খুলছে, দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে। একটা না, যেন একাধিক অদৃশ্য হাত একসঙ্গে লেগেছে কাজে। অথচ আমি জানি, ওপরে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। বাতাস নেই, পর্দা একচুলও নড়ছে না, তবুও শব্দগুলো ক্রমে বাড়ছে, তীব্র হচ্ছে, যেন কোনো অদৃশ্য উপস্থিতি ধীরে ধীরে ঘন হয়ে উঠছে চারপাশে। অস্বস্তি ধীরে ধীরে ভয়ে রূপ নিচ্ছে, বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দটা যেন কানে লেগে বাজছে। ঠিক তখনই হঠাৎ করে সব থেমে গেল। একেবারে নিস্তব্ধতা। এমন নিস্তব্ধতা, যা স্বাভাবিক নয়; বরং আরও বেশি ভয়ংকর। আর পরমুহূর্তেই কড়াৎ করে খুলে গেল তিনতলার দরজাটা। আমি তাকিয়ে আছি। ভেতরে ঢুকলেন আমার হোস্ট, হাতে ট্রে, মুখে একেবারে স্বাভাবিক ভাব; যেন এইমাত্র যে অদৃশ্য তাণ্ডবটা হলো, তার কোনো অস্তিত্বই নেই।

কয়েক দিন আগে আবার গিয়েছিলাম ওই বাড়িতে। আগের মতোই আছে। গাছপালায় ঠাসা, শীতল, পাখির ডাকে মুখর এক বাড়ি। আপাত শান্তির আশ্রয়। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘এখনো কি তারা… কিংবা সে আছে?’ তিনি একটু থেমে বললেন, ‘হ্যাঁ… আছে।’ তারপর জানালেন, এমনিতে সব শান্তই থাকে, কিন্তু যখনই ওদের নিয়ে আলাপ হয় বা কেউ মন দিয়ে ভাবতে শুরু করে, তখনই শুরু হয় নানা কাণ্ড। গত মাসের কথা, তার ভাই-ভাবি দেশের বাইরে, তিনি একা বাড়িতে। ফোনে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছিল, সব ঠিক আছে কিনা, মূলত রহস্যময় কিছুর উপস্থিতির মধ্যে বাড়িতে একা থাকা নিয়েই দুশ্চিন্তা।

সেই সময়েরই এক রাতের ঘটনা। পরিচিত ভদ্রলোক নিরামিষভোজী, সন্ধ্যার পর দোতলায় একা বসেছিলেন। ফ্রিজে আগের দিন রাখা ঢেঁড়সের কথা মনে পড়ল। দরজা খুললেন, নেই। একটু থমকে গেলেন। ভুল করছেন নাকি? ওপর থেকে নিচে থাকা পরিচালককে ডাক দিলেন, ‘এই ঢেঁড়স তুমি বের করেছ?’ উত্তর এলো, ‘না স্যার।’ আবার খুঁজলেন, নেই। এবার মনে কু ডাকল। কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে আল্লাহর নাম নিয়ে আবার খুললেন রেফ্রিজারেটরের দরজা। এবার ঢেঁড়সগুলো আছে। ঠিক আগের জায়গাতেই। যেন কোথাও যায়ইনি, শুধু কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়েছিল।

আরেকটা আশ্চর্য তথ্যও জানালেন। এই বাড়িতে কয়েকটা বিড়াল নিয়মিত ঘোরাফেরা করে; কিন্তু যখনই অস্বাভাবিক কিছু ঘটতে যাচ্ছে, তার আগেই তারা উধাও হয়ে যায়। একটাও দেখা যায় না। যেন আগে থেকেই টের পায়, কিছু একটা আসছে। কিছু, যা মানুষের চোখে ধরা পড়ে না। তাই প্রশ্নটা থেকেই যায়, সেগুনবাগিচার ওই পুরনো বাড়িতে ওরা কি এখনো আছে?
উত্তর, ওরা এখনো আছে।

দেখা যায় না। শোনা যায় না সবসময়; কিন্তু তারা আছে।

কাজী আনোয়ার হোসেনভুতুড়েসেগুনবাগিচা
    শেয়ার করুন:
    হার দিয়ে শেষ সিটির গার্দিওলা অধ্যায়

    হার দিয়ে শেষ সিটির গার্দিওলা অধ্যায়

    ২৪ মে ২০২৬, ২৩:৪০

    বাংলায় শুরু ডিটেনশন ক্যাম্প

    বাংলায় শুরু ডিটেনশন ক্যাম্প

    ২৪ মে ২০২৬, ২৩:৩৯

    নাঙ্গলকোটে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, ব্যবসায়ীকে পিটুনি

    নাঙ্গলকোটে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, ব্যবসায়ীকে পিটুনি

    ২৪ মে ২০২৬, ২৩:৩৮

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম

    ২৪ মে ২০২৬, ২২:২২

    জামায়াত নেতার ফেস্টুন কাটাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি, ভাঙচুর

    জামায়াত নেতার ফেস্টুন কাটাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি, ভাঙচুর

    ২৪ মে ২০২৬, ২৩:১৩

    নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দিতে নতুন উদ্যোগ

    নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দিতে নতুন উদ্যোগ

    ২৪ মে ২০২৬, ২৩:৩৪

    ফতুল্লায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ, মাদকসহ নারী গ্রেপ্তার

    ফতুল্লায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ, মাদকসহ নারী গ্রেপ্তার

    ২৫ মে ২০২৬, ০০:০৫

    ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুরির মাল কিনলেন পুলিশ কর্মকর্তা

    ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুরির মাল কিনলেন পুলিশ কর্মকর্তা

    ২৪ মে ২০২৬, ২২:৪০

    সংবাদ উপস্থাপনায় বড় টিপ ও একপাশে ওড়নায় নিষেধাজ্ঞা

    সংবাদ উপস্থাপনায় বড় টিপ ও একপাশে ওড়নায় নিষেধাজ্ঞা

    ২৫ মে ২০২৬, ০০:০৯

    খাঁচায় কেন টিয়া, গুনতে হলো জরিমানা

    খাঁচায় কেন টিয়া, গুনতে হলো জরিমানা

    ২৫ মে ২০২৬, ০০:১৭

    পার্বতীপুরে ট্রাকচাপায় নিহত ১, আহত মা-শিশু

    পার্বতীপুরে ট্রাকচাপায় নিহত ১, আহত মা-শিশু

    ২৫ মে ২০২৬, ০০:১৮

    চুক্তিতে ‘তাড়াহুড়া’ নয়, সুর নরম করলেন ট্রাম্প

    চুক্তিতে ‘তাড়াহুড়া’ নয়, সুর নরম করলেন ট্রাম্প

    ২৪ মে ২০২৬, ২২:৩৯

    মা-বাবা কর্মস্থলে, ঘরে ঢুকে শিশুকে ধর্ষণ

    মা-বাবা কর্মস্থলে, ঘরে ঢুকে শিশুকে ধর্ষণ

    ২৪ মে ২০২৬, ২২:১১

    গেটের তালা ভেঙে কলেজ মাঠে পশুর হাট সাবেক ছাত্রদল নেতার

    গেটের তালা ভেঙে কলেজ মাঠে পশুর হাট সাবেক ছাত্রদল নেতার

    ২৪ মে ২০২৬, ২২:০৯

    স্টেশন প্রাণবন্ত রাখে শিক্ষার্থীদের

    স্টেশন প্রাণবন্ত রাখে শিক্ষার্থীদের

    ২৪ মে ২০২৬, ১০:১৬

    advertiseadvertise