গয়নায় লেখা যুদ্ধের গল্প

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি ছোট্ট গয়নার কর্মশালায় আগুনের নীল শিখা নেচে উঠছে। একজন কারিগর শেষবারের মতো ব্লো-টর্চ দিয়ে রুপার লকেটটির গায়ে আগুন ছুঁইয়ে দিচ্ছেন। দেখতে ঠিক ড্রোনের প্রপেলারের মতো। কেউ যদি না জানে, ভাববে আধুনিক কোনো ডিজাইন। কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে চার বছরের যুদ্ধের গল্প।
একসময় মানুষ ফুল, হৃদয় কিংবা প্রজাপতির নকশার গয়না পরতে ভালোবাসত। এখন সেই জায়গায় এসেছে ড্রোন, ট্যাংক, গুলি আর যুদ্ধের প্রতীক। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ইউক্রেনে এখন এটিই নতুন বাস্তবতা। কারণ, যুদ্ধ শুধু শহর ভাঙে না, মানুষের মনও বদলে দেয়। আর সেই বদলে যাওয়া মন কখনো কখনো গড়ে তোলে একেবারে নতুন শিল্প।
২৬ বছরের তরুণ কারিগর ইলিয়া হাসতে হাসতে বললেন, ‘যে সৈনিক ড্রোন নিয়ে কাজ করে, তার গলায় থাকবে ড্রোনের লকেট। আর যে ট্যাংক চালায়, তার গয়নায় থাকবে ট্যাংকের ছাপ।’
অর্থাৎ গয়নাও যেন এখন পরিচয়পত্র! দোকানটির মালিক ওলেক্সি নিজেও একজন সৈনিক। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হলে তিনি অস্ত্র হাতে যুদ্ধে যোগ দেন। তাই তাদের প্রতিষ্ঠানের স্লোগানও বেশ আবেগী— ‘একজন সৈনিকের কাছ থেকে, আরেকজন সৈনিকের জন্য।’




