মৃত্যুর এত বছর পর কার্ডবোর্ডের বাক্সে দালির কাটা পা: আসল রহস্যের চমক!

পরাবাস্তববাদী স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী সালভাদর দালি
ভাবুন তো, একটি সাধারণ কার্ডবোর্ডের বাক্সে রাখা আছে মানুষের একটি কাটা পা, সঙ্গে কয়েকটি দাঁত আর এক গোছা চুল! বাক্সটি নেওয়া হচ্ছে ৪৩৫ মাইল দূরের এক গবেষণাগারে। শুনতে ভুতুড়ে গল্প বা অদ্ভুত সিনেমার দৃশ্য মনে হলেও, এটি একদম সত্য ঘটনা। আর ওই পা যার তার নয়, বিশ্বের অন্যতম সেরা চিত্রশিল্পী সালভাদর দালির, যিনি ১৯৮৯ সালে প্রয়াত হয়েছেন। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় ৩৭ বছর পর তার পা এভাবে কেটে কেন বাক্সে ভরা হলো?
ঘটনার শুরু ২০১৭ সালে। পিলার অ্যাবেল নামের এক নারী হঠাৎ দাবি করেন, দালি তার বাবা। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। এর প্রমাণ পেতে দালির কবর খোঁড়ার নির্দেশ দেন বিচারক। মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর খোঁড়া হলো তার কবর। আশ্চর্যের বিষয়, এত বছর পরও দালির সেই বিখ্যাত গোঁফ জোড়া ঘড়ির কাঁটার ১০টা ১০ মিনিটের মতোই একদম নিখুঁতভাবে ওপরের দিকে ওঠানো ছিল! ফরেনসিক দল ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তার পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে নেয় এবং চুল ও দাঁত সংগ্রহ করে।স্পেনের মাদ্রিদের ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষার পর প্রমাণ হয়–ওই নারীর দাবি পুরোপুরি মিথ্যা। স্প্যানিশ আর্ট মায়েস্ত্রো দালির সঙ্গে পিলার অ্যাবেলের রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু জিনতত্ত্ববিদ আন্তোনিও আলোনসোর মন ভীষণ খারাপ হলো। তার মনে হলো, একটি মিথ্যা দাবির জন্য এমন একজন মহান শিল্পীর কবর খোঁড়া খুব কাজ হয়েছে। ডিএনএ প্রমাণের জন্য তো শুধু একটি নখ বা দাঁতই যথেষ্ট ছিল, পা কাটার তো দরকারই ছিল না!
এই অপরাধবোধ থেকেই আলোনসোর মাথায় এক দারুণ বুদ্ধি এলো। তিনি ভাবলেন, দালির পা যেহেতু কেটেই ফেলা হয়েছে, তাই এই ডিএনএ কাজে লাগিয়ে দারুণ কিছু করা যাক! দালির পুরো ডিএনএ পরীক্ষা করার প্রস্তাব দিলেন তিনি। তার উদ্দেশ্য ছিল–দালির মতো একজন মানুষের এমন অসীম প্রতিভার পেছনে কোনো জাদুকরী জিন বা বংশগত রহস্য লুকিয়ে আছে কি না, তা খুঁজে বের করা।
মজার ব্যাপার হলো, পরাবাস্তববাদী শিল্পী দালি বেঁচে থাকলে হয়তো এই আইডিয়া শুনে খুশিতে লাফিয়ে উঠতেন! কারণ, শিল্পের পাশাপাশি বিজ্ঞান আর ডিএনএ নিয়ে তার পাগলামি ছিল দেখার মতো। ডিএনএ-কে তিনি ‘ঈশ্বরের স্মৃতি’ বলতেন। এমনকি ডিএনএ আবিষ্কারক জেমস ওয়াটসনের সঙ্গে দেখাও করেছিলেন। দালির দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, বিজ্ঞান আর এই ডিএনএ-র মাধ্যমেই মানুষ অমর হয়ে থাকতে পারে।
তবে আলোনসোর এই আইডিয়া এখনো আলোর মুখ দেখেনি। দালির সম্পত্তির দেখভাল করে যে ফাউন্ডেশন, তারা এই গবেষণায় রাজি নয়। তাদের মতে, এর সঙ্গে অনেক আইনি, নৈতিক আর সংবেদনশীল বিষয় জড়িত। কিন্তু আলোনসোও হাল ছাড়ার পাত্র নন। দালির কিছু ডিএনএ নমুনা এখনো ল্যাবেই রয়ে গেছে। তিনি আশায় আছেন, হয়তো একদিন কিংবদন্তি চিত্রশিল্পীর ওই ছোট্ট ডিএনএ নমুনা থেকেই আমরা মানুষের সৃজনশীলতা আর প্রতিভার অজানা এক রহস্য ভেদ করতে পারব।
সূত্র: এল পাইস (স্পেন)






