ইঁদুরের মতো ডাইনোসর কেন ছিল না

ডাইনোসরের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশালাকার প্রাণীর ছবি। কারও লম্বা গলা, কারও আবার ধারালো দাঁত আর বিশাল দেহ। পৃথিবীর ইতিহাসে স্থলভাগে বিচরণ করা সবচেয়ে বড় প্রাণীদের মধ্যে ছিল আর্জেন্টিনোসরাস প্রজাতির ডাইনোসর— যার ওজন হতে পারত ৭০-৯০ টন, আর দৈর্ঘ্য ১০০ ফুটের বেশি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিশাল ডাইনোসর ছিল, মাঝারি আকারেরও ছিল— তাহলে ইঁদুরের মতো ছোট ডাইনোসর কোথায়? পৃথিবীতে আজ যেমন ক্ষুদ্র পাখি, ছোট স্তন্যপায়ী কিংবা টিকটিকি রয়েছে, তেমন ক্ষুদে ডাইনোসরের কোনো জীবাশ্ম কেন পাওয়া যায় না? নতুন এক গবেষণা বলছে, এর পেছনে শুধু শরীরের গঠন বা বিবর্তনের নিয়ম নয়, ছিল কোটি বছরের প্রতিযোগিতা।
গবেষকরা গাণিতিক মডেলের সাহায্যে বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর শরীরের আকার কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করেন। দেখা যায়, স্তন্যপায়ী প্রাণী, উড়তে সক্ষম পাখি এবং কচ্ছপের শরীরের আকার শক্তি ব্যবহার ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য দিয়েই ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ডাইনোসরের ক্ষেত্রে সেই হিসাব মিলছে না। অর্থাৎ, অন্য কোনো কারণ কাজ করেছে।
স্টেফানি লেচকির ভাষায়, ছোট প্রাণীর বেঁচে থাকার সুবিধা অনেক। তাদের খাবার কম লাগে, দ্রুত বড় হয় এবং অল্প সময়েই বংশবিস্তার করতে পারে। তাই পৃথিবীর বেশিরভাগ প্রাণীই আকারে ছোট।
বাস্তবেও তাই দেখা যায়। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ পাখি এবং ৭৫ শতাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণীর আকার মানুষের তুলনায় অনেক ছোট।




