হাঁসের প্রেস কনফারেন্স!

সংগৃহীত ছবি
একটি হাঁস, একটি সবুজ মেক্সিকান জার্সি, আর প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন— শুনতে যেন কোনো কমেডি সিনেমার দৃশ্য! কিন্তু ঘটনাটি একেবারেই সত্যি। স্থানীয় সময় গত সোমবার সকালে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সংবাদ সম্মেলনে সবাইকে ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে উঠেছিল ‘মার্লিন’ নামের এক হাঁস! সেদিন ফুটবল জার্সি আর ফিফার টাই পরে টলতে টলতে সংবাদ সম্মেলনস্থলে ঢুকল মার্লিন।
প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের আগেই হাঁসটি সাংবাদিকদের সামনে নিজের আসন দখল করে নিল। আর মুহূর্তেই স্পটলাইট চলে গেল তার দিকে।
অবশ্য সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেয়নি মার্লিন। সেই দায়িত্ব পালন করেছেন তার মালিক কার্লা গোমেজ। রাস্তার পাশে পানি ও কোমলপানীয় বিক্রি করা এই নারী গর্বের সঙ্গে নিজের পরিবারকে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি জানিয়েছেন, তাদের পরিবার মেক্সিকোর লাখো শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।
তার পাশে বসেছিল দুই ছেলে— ২২ বছর বয়সী কার্লোস এবং ১৪ বছরের ক্রিস্টিয়ান। ক্রিস্টিয়ান জানায়, স্কুল শেষ হলেই সে মায়ের কাজে সাহায্য করে। আর তাদের ছোট ব্যবসার ‘বস’ হলো মার্লিন।
হাসতে হাসতে সে বলে, ‘মার্লিন সবসময় আমাদের পেছনে পেছনে ঘোরে। যেন সে দেখছে আমরা ঠিকমতো কাজ করছি কি না!’
পরিবারটি মার্লিনেরও বিশেষ যত্ন নেয়। তার খাবারের তালিকায় থাকে ছোট মাছ, ঝিঁঝি পোকা, আর সপ্তাহে এক দিন— রবিবার বিশেষ পুরস্কার হিসেবে একটি মাংসের টাকো।
গোমেজ জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের সময় মার্লিনের জনপ্রিয়তা তাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের ঘটনা। তবে শুধু মার্লিনই নয়, এর আগেও তাদের আরেক হাঁস ‘ব্রুনা’ স্থানীয় তারকায় পরিণত হয়েছিল। সে আবার টেনিস জুতা পরে ঘুরে বেড়াত!
গোমেজের বিশ্বাস, মানুষ তাদের ভালোবেসেছে, কারণ তারা একটি সংগ্রামী, পরিশ্রমী পরিবারের প্রতিচ্ছবি। ‘মানুষ দেখেছে, আমরা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে জীবিকার জন্য লড়াই করি’— বলেছেন তিনি।
একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম নিজেও মার্লিনকে আদর করার চেষ্টা করেন এবং পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলেন। তবে পরে অন্য বিষয়ে যাওয়ার জন্য তাকে সাংবাদিকদের প্রশ্ন থামিয়ে দিতে হয়।
মজার ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে সাড়া ফেললেও, সমালোচনাও কম হয়নি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা যখন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায়, তখন একটি হাঁসকে সংবাদ সম্মেলনে আমন্ত্রণ দেওয়া কতটা যৌক্তিক।
অন্যদিকে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, মার্লিনের জনপ্রিয়তা দেখে অনেকেই শখের বশে হাঁস বা অন্য প্রাণী কিনতে পারেন, যা পরে পরিত্যাগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাদের ভাষায়, ‘প্রাণীদের ফ্যাশনের জন্য মালিক নয়, দায়িত্বশীল অভিভাবক দরকার।’




