কৌশল ছাড়াই যুদ্ধ করছেন ট্রাম্প, ক্ষুব্ধ ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী

র্যাচেল রিভস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস। তার অভিযোগ, কোনো সুস্পষ্ট ‘প্রস্থানকৌশল’ ছাড়াই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন।
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বেছে নিয়েছেন, তাতে আমি ক্ষুব্ধ। এই যুদ্ধ থেকে কীভাবে বের হওয়া যাবে— সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই’, বিবিসি রেডিও টু–এর জেরেমি ভাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলছিলেন রিভস।
এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারও ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী যুদ্ধে যোগ দিতে ব্রিটেন কোনো চাপে নতি স্বীকার করবে না।
‘এই যুদ্ধের প্রভাব আমাদের দেশের ভবিষ্যতে পড়বে... মানুষকে সত্যিটা বলতেই হবে। সময়টা সহজ হবে না’, গতকাল বুধবার যুক্তরাজ্যে নতুন করে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা জোরালো হওয়ার মধ্যে ব্যাখ্যা করেন স্টারমার।
এর আগে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধে মিত্ররা পাশে না দাঁড়ানোয় তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। ‘ব্রিটেনের কোনো নৌবাহিনী নেই এবং তাদের বিমানবাহী রণতরীগুলো কাজ করে না’, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলছিলেন তিনি।
তবে স্টারমার বলেছেন, ইরান সংঘাতে যে অর্থনৈতিক ধাক্কা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাজ্যের আছে। ট্রাম্পের দাবি, তেহরান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট ব্রিটেনের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে। এরই মধ্যে জ্বালানির দাম বেড়েছে, আর বছরের শেষ দিকে গ্যাস-বিদ্যুতের বিলও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে কূটনৈতিক তৎপরতায় নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ইরান কার্যত বেশিরভাগ রপ্তানির জন্য অচল করে দিয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যপ্রবাহ আগের অবস্থায় ফেরানো সহজ হবে না বলেও সতর্ক করেছেন স্টারমার।
লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। ‘যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া জীবনযাত্রার ব্যয়জনিত চাপ মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে’। তিনি ব্রিটিশ জনগণকে সত্তরের দশকের মতো জ্বালানি–ধাক্কার অভিজ্ঞতার মধ্যে ফেলতে চান না।
‘আমি জানি, এতে মানুষের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানুষ টেলিভিশনে, মোবাইলের পর্দায় বিস্ফোরণ দেখছে, অবকাঠামো ধ্বংস হতে দেখছে, শুনছে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য’, যোগ করেন স্টারমার।
‘মানুষ ভাবছে, যুক্তরাজ্যও বুঝি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। আমরা জড়াব না।’ স্টারমারের ভাষায়, ‘ঝড় যতই তীব্র হোক, আমরা তা সামাল দেওয়ার মতো অবস্থানে আছি’ এবং ‘এই সংকট কাটিয়ে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে।’

