আলোচনায় স্থবিরতায় মার্কিন অবরোধকেই দায়ী করছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা

সংগৃহীত ছবি
পারস্য উপসাগরে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে অনির্দিষ্টকালের জন্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছেন এমনটাই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ইরানের ‘গভীরভাবে বিভক্ত’ সরকারের কথা। তবে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা স্থবির হয়ে পড়া শান্তি আলোচনার জন্য দায়ী করছেন হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকেই।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার এক পোস্টে বললেন, ‘চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে আমাদের অনুরোধ গ্রহণ করে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফা আলোচনায় সম্পন্ন হতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানান, এখন সিদ্ধান্ত ইরানের হাতে। তার ভাষায়, ইরান সরকার ‘গভীরভাবে বিভক্ত’, তাই তাদের নেতারা ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত হামলা স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই ঘোষণা নিয়ে নীরব রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার বাকের কালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব।
ইসলামাবাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন তুলে ধরছে ভিন্ন চিত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বললেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ না তুললে আলোচনায় ইরান দুর্বল অবস্থানে পড়বে— এ আশঙ্কাই পিছিয়ে দিয়েছে তেহরানকে।’
একই মত দেন একজন আঞ্চলিক কূটনীতিকও। তিনি বললেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পর যদি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নিত, তাহলে মঙ্গলবারই ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হতে পারত। কিন্তু অবরোধ বহাল রেখে ট্রাম্প কঠিন অবস্থায় ফেলেছেন ইরানকে।’
এদিকে এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধকে ‘যুদ্ধের সমতুল্য’ এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেন আব্বাস আরাকচি।
দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য রবিবার থেকেই ইসলামাবাদ কার্যত লকডাউনে ছিল। রাজধানী ও পাশের রাওয়ালপিন্ডির লাখো মানুষ কর্মস্থল, ভ্রমণ ও শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাতের মুখে পড়ে। তবুও আলোচনা না হওয়ায় হতাশা তৈরি হয়েছে।
আরেক কর্মকর্তা বললেন, ‘আমরা বড় পরিসরে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের আগমন আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। দুপক্ষের মতপার্থক্য আমাদের ধারণার চেয়ে ছিল অনেক বেশি।’
তবে অচলাবস্থার মধ্যেও আশাবাদী পাকিস্তান। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আশা করি দুপক্ষই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে যাবে না।’
আরেক কর্মকর্তার মতে, ‘এই দফা আলোচনা ব্যর্থ হলেও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা চালিয়ে যাবে। কারণ নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য ভালো হবে না এবং আমরা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

