ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোরেনোর পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

লেনিন মোরেনো। ছবি : রয়টার্স
ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। স্থানীয় সময় শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে ইকুয়েডরের পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ওপরও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোরেনোকে।
দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ‘কোকা কোদো সিনক্লেয়ার’ নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে মোরেনোকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
২০১৬ সালে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হয়। তবে চালুর পর থেকেই কেন্দ্রটিতে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক ম্যানুয়েল ক্যাব্রেরা বলেছেন, ‘লেনিন মোরেনোর আচরণ রাষ্ট্রপক্ষের আনা অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ঘুষ নেওয়ার অপরাধ করেছেন।’
ইকুয়েডরের এই কোকা কোদো সিনক্লেয়ার প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভুয়া পরামর্শক চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মোরেনো এবং তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ পেয়েছিলেন।
এ সময় বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংক ও ট্যাক্স হেভেনে থাকা শেল কোম্পানির মাধ্যমে এসব অর্থ মোরেনোর পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের কাছে পাচার করা হয়েছে।
মোরেনো, তার পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় ও চীনা ব্যবসায়ীদের জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৩ সালের মার্চে তদন্ত শুরু করে ইকুয়েডরের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, মোরেনোর স্ত্রী ও কন্যা, তার দুই ভাই ও তাদের স্ত্রীদেরও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কুইটোতে চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুঙ্গুওকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মোরেনো প্রতিনিয়ত এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি জোর দিয়ে দাবি করেছেন, প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর বা তদারকিতে তার কোনো ভূমিকা ছিল না।
শুনানির সময় মোরেনো আদালতকে বললেন, আপনারা ভুল জায়গায় খুঁজছেন। যারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল, যাদের ঘুষ চাওয়ার অভ্যাস ছিল, তাদের দিকে তাকান।
২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন লেনিন মোরেনো। ঘুষের মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতে প্যারাগুয়ে থেকে ইকুয়েডরে ফিরে আসেন তিনি।







