নির্বাচনের দাবিতে ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ

ছবি: রয়টার্স
অবাধ নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন ভেনেজুয়েলার হাজারো মানুষ। দেশটির বিভিন্ন শহরে একযোগে বিক্ষোভ করছেন তারা। দুই বছরের মধ্যে দেশ জুড়ে এটিই বিরোধীদের প্রথম বিক্ষোভ।
শিগগিরই ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তবে নির্বাচন কবে হবে তেমন কোনো তারিখ জানাননি তারা।
২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন দেশটির বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে দেশ ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মাচাদো।
এ বিক্ষোভের আয়োজন করে মাচাদোর রাজনৈতিক দল ভেন্তে ভেনেজুয়েলা। রাজধানী কারাকাস ছাড়াও ভ্যালেন্সিয়া, মারাকাই, সান ক্রিস্তোবাল ও মারাকাইবোসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়।
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী তুলে নেওয়ার পর ৩ জানুয়ারি থেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। ১৯৯৯ সাল থেকে দেশটির ক্ষমতায় রয়েছে তাদের দল ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি (পিএসইউভি)। অতীতে বিক্ষোভ দমনে সরকার নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করলেও বৃহস্পতিবার বিক্ষোভস্থলগুলোয় সরকারি বাহিনীর উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর মারাকাইয়ে বিক্ষোভে এসেছিলেন ১৮ বছর বয়সী কসমেটোলজির শিক্ষার্থী লিওসমারি হার্নান্দেজ। তিনি বলেছেন, ‘এটা দেখে আমি খুশি, কারণ আমি জানি পরিবর্তন সম্ভব। ডলারের কারণে আমাকে অনেক কষ্ট ও সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পড়াশোনা করতেও নানা অসুবিধার মুখে পড়েছি। নিজের দেশ এবং আমাদের পরবর্তী নেতা ও প্রেসিডেন্ট মারিয়া কোরিনার প্রতি আমার অনেক আশা।’
‘আগেও আমি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছি, তখন পরিস্থিতি আরও কঠিন ছিল। আজ আমি ভয় কম পাচ্ছি। আমি চাই আমার কণ্ঠস্বর শোনা হোক’, যোগ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা পিএসইউভির নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, কারাবন্দি করা ও নির্যাতনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেওয়ার পরও মার্কিন সমর্থনে ক্ষমতায় রয়েছে দলটি। মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ।
মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলা অনেকটা ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটির তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সংস্কারের জন্য রদ্রিগেজ সরকারকে চাপ দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নিয়েছে ওয়াশিংটন।
নির্বাচনের আগে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ও নির্বাচন পরিষদ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিরোধীদের একটি অংশ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। চলতি মাসে এ আলোচনার সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে পরিবর্তন আনতে উল্লেখযোগ্য সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলা এসব আলোচনায় মাচাদোর রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে না। তবে মাচাদো বলেছেন, আলোচনার অগ্রগতিতে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে কারাকাস থেকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। তারপর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে তাদের। যদিও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা।
সূত্র: আল জাজিরা



