চুক্তি বানচালে লেবাননে হামলা

সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পরও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। লেবাননে ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। চুক্তির মধ্যস্থতাকারীরাও বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের কথা বলা হয়েছে। তবে কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না তেলআবিব। চুক্তি বানচাল করতেই লেবাননে ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুই দেশের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে ট্রাম্পসহ বিশ্বনেতাদের আহ্বান উপেক্ষা করে গতকাল দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির বাহিনীর চালানো ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন তিন লেবানিজ। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। বিমান হামলা চালানো হয়েছে আল-ফাওকা, কাফার তেবনিত অঞ্চলেও। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দাবি, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এ হামলা। এদিকে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় আহত হয়েছে পাঁচ ইসরাইলি সেনা। এক ইসরায়েলি সেনার নিহতের কথাও বলা হয়েছে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে।
চুক্তির মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইসরায়েলের নেতারা তা কিছুতেই মানছেন না। তারা লেবাননে হামলা চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প করেছেন।
জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, মার্চে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষে লেবাননে নিহত হয়েছে অন্তত ২৪৭ শিশু। আহতের সংখ্যা হাজারের ওপর।
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি বজায় থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সই হওয়া সমঝোতা স্মারক ‘বাতিল’ গণ্য করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। লেবাননের হিজবুল্লাহপন্থী সংবাদমাধ্যম ‘আল আখবার’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন এ কথা। তিনি জানালেন, একটি চূড়ান্ত চুক্তি করা ও স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আজ শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের পর্যটন শহর বুর্গেনস্টকেতে মার্কিন ও ইরানি আলোচকদের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের প্রাথমিক আলোচনা শুরু হতে চলেছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি তখনই আলোর মুখ দেখবে, যখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে। তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, এই বাস্তবায়নের অর্থ হলো, লেবাননে সব ধরনের হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং সেখানে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো।
সাক্ষাৎকারে ইরানি মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেছেন, লেবাননের ভাইদের বিপদে ফেলে চলে যাওয়া আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিল না। আমরা এই যুদ্ধের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাপ্তি চাই। এ কারণে, লেবাননের ভূখণ্ডের কোনো অংশ যদি ইসরায়েলের দখলদারিত্বে থাকে, তবে যুদ্ধ অবসান নিয়ে আলোচনা করা নিরর্থক। যতক্ষণ দখলদারিত্ব চলবে, ততক্ষণ ধরে নিতে হবে যে যুদ্ধ মূলত শেষ হয়নি, বরং তা এখনো জারি রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান পরিষ্কার করে দিয়েছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা না হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান খসড়া চুক্তিটি পাবে না স্থায়িত্ব।




