মেয়াদ শেষের আগেই যুদ্ধবিরতি বাড়াতে একমত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

যুদ্ধবিরতি বাড়াতে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। ছবি: সংগৃহীত
আগামী ১৭ আগস্ট নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে দুই দেশ। মধ্যস্থতাকারী সূত্রের বরাত দিয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে এ তথ্য।
গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পরে ১৭ জুন চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে দুই দেশ। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে থমকে যায় আলোচনা। এরপর জুলাইয়ে উভয় দেশ একে অপরের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে।
সম্প্রতি সংকট নিরসনে দুই পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে জোরালো তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে তেহরান সফর করছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন নতুন শর্ত তুলে ধরায় ইরানে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে বড় কোনো চুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার মধ্যেই ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত প্রণালিটি খুলবে না তারা।
তেহরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরান ও দেশটির মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ, যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়া, জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার।
ইরানের এসব শর্ত ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা দাবি করেছেন, ২০০০ সালে ইয়েমেনে নিহত ১৭ মার্কিন নাবিকের পরিবার, গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ইরানিদের পরিবার এবং লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও গাজায় মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তেহরানকে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অঞ্চলটি পুরোপুরি মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প। ইরান কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বন্দর অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে ওমান উপসাগরে একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার থেকে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ নামের জাহাজটির ইঞ্জিন অচল করে দেওয়া হয়।
গত ১৪ জুলাই বন্দর অবরোধ পুনর্বহালের পর এটি মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত তৃতীয় হামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।





