যুক্তরাষ্ট্রে ঘুর পথে চীনা পণ্য, বছরে ২৬ বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফাঁকি!

চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ার পর তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য ঘুরিয়ে মার্কিন বাজারে প্রবেশের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চীনে তৈরি পণ্য, তৃতীয় দেশের লেবেল, আর মার্কিন বাজারে প্রবেশের নতুন পথ—শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে এবার এই বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক প্রতিবেদনে ৪০টির বেশি দেশকে এমন পণ্য পরিবহনের উচ্চঝুঁকির রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ার পর তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য ঘুরিয়ে মার্কিন বাজারে প্রবেশের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পণ্যের প্যাকেজিং বদলানো, নতুন দেশের ‘মেড ইন’ লেবেল লাগানো কিংবা সামান্য প্রক্রিয়াজাত করার পর সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
এই ব্যবস্থাকে হোয়াইট হাউস বলছে ‘গ্লোবাল ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’—যার মাধ্যমে পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনস্থল আড়াল করে তুলনামূলক কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।
চীন ছাড়াও মেক্সিকো, পানামা, কলম্বিয়া ও ব্রাজিলসহ ৪০টির বেশি দেশকে সম্ভাব্য ট্রান্সশিপমেন্ট ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এসব দেশের উৎপাদন কেন্দ্র, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, গুদাম ও পুনঃরপ্তানি কেন্দ্র ব্যবহার করে পণ্য অন্য দেশে ঘুরিয়ে দেওয়ার আশঙ্কার কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের হিসাব অনুযায়ী, এই ধরনের শুল্ক-এড়ানো ট্রান্সশিপমেন্টের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোষাগার বছরে প্রায় ১৯ থেকে ২৬ বিলিয়ন ডলার শুল্ক-রাজস্ব হারাতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পর থেকেই এই প্রবণতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। সরাসরি চীন থেকে পণ্য পাঠালে বেশি শুল্ক দিতে হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বিকল্প রুট খুঁজতে শুরু করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে ৪০টির বেশি দেশের তালিকায় থাকা মানেই ওই দেশগুলোর সরকার বা সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে শুল্ক ফাঁকিতে জড়িত—এমন অভিযোগ নয়। বরং এসব দেশকে সম্ভাব্য ট্রান্সশিপমেন্ট রুট ও উচ্চঝুঁকির বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রকৃত উৎপাদনস্থল শনাক্তকরণ ও কাস্টমস যাচাই আরও কঠোর করে, তাহলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বৈধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ এবং ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—চীনা পণ্য সরাসরি আসুক কিংবা তৃতীয় দেশের আড়ালে ঘুরে আসুক, মার্কিন শুল্ক এড়ানোর পথ আর সহজ রাখা হবে না।
উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসের চিহ্নিত ৪০টির বেশি সম্ভাব্য ট্রান্সশিপমেন্ট রুটের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।






