ইরাকে অর্থ ও সামরিক সহয়তা বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

সংগৃহীত ছবি
ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের দমনে চাপ বাড়াতে দেশটিতে মার্কিন ডলার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে স্থগিত করা হয়েছে ইরাকি বাহিনীর সঙ্গে চলমান সব ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতামূলক কর্মসূচিও। মার্কিন ও ইরাকি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে এসব তথ্য।
সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে কথা ছিল ইরাকি তেলের আয়ের প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি চালান পাঠানোর। কিন্তু মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর হাতে এই অর্থ যাওয়ার আশঙ্কায় চালানটি আটকে দেয় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলার পাঠাতে বিলম্ব করল ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেহরানের সমর্থনে ইরাক ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনায় মিলিশিয়াদের হামলার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে এই পদক্ষেপ। মূলত ইরাক ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রায় আট সপ্তাহের যুদ্ধে বাগদাদকে ওয়াশিংটনের পক্ষে টানতেই সৃষ্টি করা হয়েছে এই চাপ।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিলিশিয়াদের হামলা বন্ধ না হওয়া এবং এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রশিক্ষণের তহবিলও।
তবে গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দাবি করেছে, মার্কিন ডলারের কোনো সংকট নেই তাদের। ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানিগুলোর সব চাহিদা পূরণ করতে পারছে তারা।
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর দেশটির তেল বিক্রির অর্থ নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে রাখার বিষয়ে একমত হয়েছিল দুই দেশ। ইরাকের নগদ অর্থনীতি সচল রাখতে সেখান থেকে বাগদাদে পাঠানো হয় বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার।
২০১৫ সালেও আইএসের হাতে অর্থ যাওয়ার আশঙ্কায় একবার ডলার সরবরাহ বন্ধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার মিলিশিয়াদের দমনে সেই একই হাতিয়ার ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: আলজাজিরা।

