নভেম্বরের আগে ইরান যুদ্ধ থামবে না, কমবে না তেলের দামও

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পথেই হাঁটছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এতে বিশ্বের শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটি ‘অন্তহীন যুদ্ধ বা ফরেভার ওয়ার’-এর ঝুঁকিতে রয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসার কোনো স্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না। যুদ্ধের অর্থনৈতিক বোঝা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও শাসকদল রিপাবলিকান পার্টির ধরাশায়ী হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাও আবার এই ইরান যুদ্ধের কারণেই। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে অবশ্য ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটবে এবং জ্বালানির দাম কমবে। অর্থাৎ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ থামছে না। কমবে না তেলের দামও— এই সত্যটুকু বেশ জোর দিয়েই বলা যায় এখন।
ডালাসের রিপাবলিকান মিডটার্ম কনভেনশনে যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগেই এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ডালাসে ঠিক এই প্রশ্নের উত্তর জানতেই তখন অপেক্ষা করছিলেন রিপাবলিকান প্রতিনিধিরা।
গত বুধবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুসে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’র ওই সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্য, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ প্রচেষ্টা থেকে সরে আসবে ইরান। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা কম। ট্রাম্পের দাবি, তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে নভেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে ইরান।
জ্বালানির দাম কমার বিষয়ে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়ের চেয়ে এতে কিছুটা বেশি সময় লাগবে। তারা মরিয়া হয়ে নির্বাচনে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে, যাতে আমরা সেখানে একদল দুর্বল মানুষকে ক্ষমতায় বসাই। যারা তাদের কোনো বাধা দেবে না এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ করে দেবে।’ তিনি আরও বলেন, তার বিশ্বাস ইরান পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং তারা ‘নির্বাচনের পরপরই’ সংঘাতের অবসান চাইবে। যার ফলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে।’
ভোটে জিতলে প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার: রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনের প্রথম দিনের সমাপনী বক্তব্যে ভোটারদের রীতিমতো চমক দিয়েছেন ট্রাম্প। বলেছেন, ‘রিপাবলিকানরা জয়ী হলে আপনারাও আমাদের সঙ্গে জয়ী হবেন এবং ৫ হাজার ডলার পাবেন। এটিকে ট্রাম্পের বিশেষ ভাতা বলা হবে।’ ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত ১ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। ফলে আর্থিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে এটি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু বলেননি ট্রাম্প।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ট্রাম্প: নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জনমত জরিপকে ভুল প্রমাণ করে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে বলে আশা করছেন ট্রাম্প। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আমি আপনাদের বলছি, ধরে নিন আমিও ব্যালটে আছি।’ তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ৩০ শতাংশের কিছু ওপরে। অর্থাৎ ৭০ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নয়।
নির্বাচনী বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ২৩০টি আসন পেতে পারে। রিপাবলিকানরা পেতে পারে ২০৫টি। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের ৫১-৪৯ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
‘সাংবাদিকরা বাথরুমে যাবেন না’: ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বক্তৃতাকালে হঠাৎ করেই বলে ফেললেন, কেউ বাথ রুমে যাবেন না। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি নিয়েও রসিকতা করেন। ট্রাম্প বললেন, ‘কোনো সংবাদমাধ্যমের একজন সাংবাদিক বাথরুমে গেলে তার খালি চেয়ারটি ক্যামেরায় দেখানো হবে। এরপর বলা হবে, প্রেসিডেন্ট সম্মেলন কক্ষটি কানায় কানায় পূর্ণ করতে পারেননি। তাই দয়া করে কেউ বাথরুমে যাবেন না।’ তার এ কথায় সেখানে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
(তথ্যসূত্র রয়টার্স, নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিএনএন)



