নির্বাচন শুরুর আগেই ভোট গণনায় বাধা ট্রাম্পের!
- ডেমোক্র্যাটরা জিতলে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের হুমকি

প্রতীকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে আসা ২০ হাজারের বেশি ভোটারের ব্যালট গণনা স্থগিত রাখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এসব ভোটারের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে সন্দেহ। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলেও কংগ্রেসে তাদের জন্য পথ সহজ হবে না, এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছেন তিনি।
সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ (জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট) সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদনটি জমা দেয়। এর আগে শুক্রবার একটি ফেডারেল আপিল আদালত একই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। নির্বাচনের আগের দিন বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো প্রশাসন।
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করছে ডেমোক্র্যাটরা। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৩৭টি এবং রিপাবলিকানরা ১৯৮টি আসন পেতে পারেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের ৫১টি এবং রিপাবলিকানদের ৪৯টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে বিচার বিভাগ বলেছে, ‘একবার ক্যালিফোর্নিয়া যদি বিতর্কিত ব্যালটগুলোকে বৈধ ব্যালটগুলোর সঙ্গে মিশিয়ে ফেলে, তবে সেই বিতর্কিত ব্যালটগুলোকে আর আলাদা করার কোনো উপায় থাকবে না।’
এ কারণে তালিকাভুক্ত ভোটারদের ব্যালট অন্য ব্যালট থেকে আলাদা রাখার নির্দেশ দিতে আদালতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। এসব ভোটারের নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যালটগুলো গণনা না করারও আবেদন করা হয়েছে। বিচার বিভাগের আবেদনের বিষয়ে আদালত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে ব্যালটগুলো আলাদা রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পরও তিনি ফল মেনে নেননি। তবে বিভিন্ন গবেষণা ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নিরীক্ষায় দেখা গেছে, অযোগ্য ব্যক্তিদের, বিশেষ করে মার্কিন নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।




