হরমুজে টোল নেওয়ার ঘোষণার পর কেন পিছু হটলেন ট্রাম্প

ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের ঘোষণা দিয়ে নাটকীয়ভাবে আবার পিছু হটলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্র এবং নিজের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
সোমবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘হরমুজ প্রণালীর অভিভাবক’ হিসেবে পরিচিত হবে। তিনি এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী সমস্ত কার্গো জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ টোল আদায়ের কথা ঘোষণা করেন।
তবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এ পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন।
নিজ প্রশাসনের উপদেষ্টাদের মাসের পর মাস দেওয়া সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করেই ট্রাম্প এ ঘোষণা দিয়েছিলেন।
আমেরিকান শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভয়, এমন পদক্ষেপ আমেরিকার যুদ্ধকালীন লক্ষ্যকে ব্যাহত করবে এবং ইরানের টোল আদায়ের পরিকল্পনাকে বৈধতা দেবে।
এছাড়া হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং কারা এই ফি প্রদান করবে তা নিয়েও চিন্তিত ছিলেন।
পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কাতারের তীব্র আপত্তি ছিল।
এমন বাস্তবতায় ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, টোল নেওয়ার পরিবর্তে মিত্র দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি গতকাল এটি প্রকাশ করেছি, ভেবেছিলাম এটি ভালো ছিল। বিভিন্ন দেশের রাজা ও আমিররা আমাকে ফোন করেছিলেন... তারা আমাদের শক্তিশালী অংশীদার এবং তারা বলেছেন যে তারা এটি অন্যভাবে করবেন।’
এ বিষয়ে একজন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেছেন, ‘মিত্রদের বিনিয়োগের প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্টের কাছে বেশি পছন্দসই মনে হয়েছে।’
যদিও ট্রাম্পের এ পদক্ষেপটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আগের একটি বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিরোধী ছিল।
রুবিও জুন মাসে বলেছিলেন, ‘কোনো দেশকে আন্তর্জাতিক জলপথে টোল বা ফি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। এটি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইন। সারা বিশ্বের আন্তর্জাতিক জলপথ এভাবেই চলে এবং আমরা এখানেও তেমনটাই প্রত্যাশা করি।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের মন্তব্যের সুযোগ নিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদম ঠিক বলেছেন। যারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে, তাদের এই সেবার জন্য মূল্য পাওয়া উচিত।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘২০ শতাংশ অবশ্যই অনেক বেশি। আমরা ন্যায্য টোল নিব।’
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের যাতায়াত ব্যাপক কমেছে এবং তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের উপদেষ্টারা আশঙ্কা করছেন, টোলের মতো কোনো বিধিনিষেধ তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
সূত্র : সিএনএন




