‘আমি প্রার্থী হলে ভূমিধস জয় হতো’, ভরাডুবির পর ট্রাম্প

ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কার পর দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে নিজে প্রার্থী না হওয়াকেই দলের খারাপ ফলের কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না। থাকলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতাম! বিষয়টি আপনারা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন বলে ধন্যবাদ।’
তবে নির্বাচনের প্রাথমিক ফল বলছে, ভোটারদের অসন্তোষের বড় লক্ষ্য ছিলেন ট্রাম্প নিজেই। বুধবার পর্যন্ত পাওয়া ফল ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাতে যাচ্ছে রিপাবলিকানরা।
অন্যদিকে, সিনেটেও বড় অগ্রগতি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। উত্তর ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের আসন ছিনিয়ে নিয়েছে দলটি। তবে সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হতে আরও কিছু আসনের ফলের অপেক্ষা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাউথ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়েছেন। রাজ্যটিতে ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয়ী হলেন। উত্তর ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপারও ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়েছেন। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফও নিজের আসন ধরে রেখেছেন।
ভরাডুবির পেছনে ট্রাম্পও?
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন ট্রাম্প। ১৯টি রাজ্যে প্রচারাভিযানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি ভোটারদের বারবার বলেছেন, এমনভাবে ভোট দিতে যেন তিনি নিজেই ব্যালটে রয়েছেন। কিন্তু তার সমর্থন পাওয়া কয়েকজন প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে হেরে গেছেন। সাউথ ক্যারোলাইনা ও উত্তর ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থীদের পরাজয় তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
ভোটারদের অসন্তোষের কেন্দ্রে ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয়কে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখেছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াও তার জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে। অর্থনীতি সামাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২৪ সালে ক্ষমতায় ফিরলেও মূল্যস্ফীতি ও ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে তার সাফল্য নিয়ে অসন্তুষ্ট ভোটাররা।
শেষ দুই বছর কঠিন হতে পারে
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আইন পাস, বাজেট অনুমোদন ও নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হবে। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ পাবে। ফলে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, ব্যয় ও সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে তদন্ত এবং শুনানি শুরু করতে পারবে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তলব করার ক্ষমতাও পাবে তারা।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণও ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রদূত ও বিচারক নিয়োগে প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন আটকে দিতে পারবে বিরোধীরা। তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের সুযোগও পুরোপুরি বন্ধ হবে না।
নির্বাচনের ফল ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। রিপাবলিকানদের এই পরাজয় ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও দলীয় কৌশল নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। তবে নির্বাচনে নিজে প্রার্থী না থাকাকে দায়ী করে ট্রাম্প সেই চাপ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন।
সূত্র : রয়টার্স



