ইরানের পর এবার নিশানায় কিউবা? যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
ইরানের যুদ্ধ শেষে কিউবার উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে কিউবার নাগরিকদের রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি কিউবানদের মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সঙ্গে গোপনে সহযোগিতারও আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে এক নির্বাচনী সমাবেশে কিউবা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান থেকে ফেরার পথে কিউবার কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থামতে পারে। একটি যুদ্ধজাহাজ কিউবার উপকূল থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে থামবে এবং কিউবার পক্ষ আত্মসমর্পণ করবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এরপর চুক্তির কাজ শেষ করতে রুবিওকে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুবিও লিখেছেন, কিউবায় ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ চান যারা, তাদের জন্য এখনই সময়। দুর্নীতি, অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি এবং অল্প কয়েকজনের বিশেষ সুবিধাভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি কিউবানদের সিআইএর সঙ্গে ‘গোপন অংশীদারত্বের’ মাধ্যমে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।
তবে এ ধরনের সহযোগিতা কীভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনবে, তা তিনি ব্যাখ্যা করেননি।
হাভানা এরই মধ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কিউবার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেস দে কোসিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রকাশ্যেই সিআইএর জন্য লোক নিয়োগ করছে।
তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, সংস্থাটি নিজেদের সেবা ‘দাঁত মাজার পেস্টের মতো’ বিক্রি করছে। পরে সিআইএ স্প্যানিশ ভাষায় সম্ভাব্য তথ্যদাতাদের জন্য যোগাযোগের নির্দেশনাও প্রকাশ করেছে। কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ দীর্ঘদিনের।
১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর দুদেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। ১৯৬১ সালে ব্যর্থ বে অব পিগস অভিযান এবং ১৯৬২ সালের বাণিজ্য অবরোধ সেই বিরোধ আরও দীর্ঘ করে। সাম্প্রতিক কিউবায় জ্বালানি ও খাদ্যের ঘাটতি, বিদ্যুৎবিভ্রাট এবং মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। দেশ ছেড়েছেন লাখ লাখ মানুষ।
একই সময়ে দুদেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পও আগে সামরিক পদক্ষেপ ছাড়াই চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। তবে সর্বশেষ বক্তব্যে কিউবা নিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাই আবার সামনে আনলেন ট্রাম্প।
সূত্র : এপি




