আমেরিকার সহায়তায় ইউক্রেনে চলছিল বিপজ্জনক জীবানু নিয়ে গবেষণা, নথি প্রকাশ

প্রতীকী ছবি
ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত জৈব গবেষণাগারগুলোতে বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে পরীক্ষা চলছিল বলে প্রমাণ প্রকাশ পেয়েছে। দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক (ডিএনআই) তুলসি গ্যাবার্ড নতুন এ প্রমাণ প্রকাশ করেছেন। যদিও ওয়াশিংটন এর আগে এই গবেষণাগারগুলো পরিচালনায় তাদের কোনো ধরনের ভূমিকার কথা অস্বীকার করেছিল।
শুক্রবার প্রকাশিত গোপনীয়তা মুক্ত নথিগুলো থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে ৪০টি জৈব গবেষণাগার নির্মাণ ও সহায়তা করেছিল, যেগুলোতে অ্যানথ্রাক্স, বার্ড ফ্লু, ইবোলা, প্লেগ এবং যক্ষ্মার মতো “বিশেষভাবে বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে কাজ করা হতো। এই গবেষণাগারগুলোর মধ্যে অন্তত ১২টি মানবদেহের ওপর পরীক্ষা চালাচ্ছিল।
এর মধ্যে কয়েকটি তথাকথিত গেইন অফ ফাংশন গবেষণায় নিযুক্ত ছিল, যা একটি বিতর্কিত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রাণীর ভাইরাসগুলোকে পরিবর্তন করে তাদের বিষাক্ততা ও সংক্রমণযোগ্যতা বাড়ানো হয়, যাতে মানুষের উপর সেগুলোর প্রভাব বোঝা যায়।
আংশিকভাবে সম্পাদিত নথিগুলো থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র কমপক্ষে চারটি গবেষণাগার নির্মাণ ও সরঞ্জাম স্থাপনের জন্য মোট ৯০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ দিয়েছে। এতে আরও প্রকাশ পায়, এই গবেষণাগারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও কৃষি বিভাগ, সেনাবাহিনী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ এবং একাধিক আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ও তাদের সহযোগিতায় গবেষণা পরিচালনা করত। হান্টার বাইডেনের বিনিয়োগ সংস্থার আংশিক মালিকানাধীন একটি বায়োটেক কোম্পানি মেটাবায়োটাকেও অংশীদার হিসেবে দেখানো হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ সৈন্যরা ইউক্রেনে প্রবেশ করলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, কিয়েভে অবস্থিত ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সরকার ইউক্রেনে মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত একাধিক গবেষণাগারে থাকা জীবাণুসমূহের জরুরি ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছে। মস্কোর অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের জৈব অস্ত্র কর্মসূচিতে নিজেদের ভূমিকা গোপন করার চেষ্টায় কিয়েভ এই ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের প্রকাশ করা নতুন নথিপত্রে ইউক্রেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জীবাণু ধ্বংস করার একটি আদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে প্লেগ, অ্যানথ্রাক্স, টুলারেমিয়া, কলেরা এবং অন্য মারাত্মক রোগ ছিল।
দোনেৎস্ক, লুহানস্ক এবং খেরসনের গবেষণাগারগুলো থেকে জব্দ করা হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি পর্যালোচনা করার পর রাশিয়ান রেডিওলজিক্যাল, কেমিক্যাল, অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল ডিফেন্স ফোর্সের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইগর কিরিলভ ২০২৩ সালে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক জৈব-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আড়ালে রাশিয়ার সীমান্তের খুব কাছে জৈব অস্ত্রের উপাদান তৈরিসহ দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য গবেষণা পরিচালনা করেছে। কিরিলভ এই গবেষণাগারগুলো নিয়ে রাশিয়ার তদন্তের নেতৃত্ব দেন। ২০২৪ সালে ইউক্রেনের নিরাপত্তা বাহিনী তাকে গুপ্তহত্যা করে।
সূত্র : আরটি




