কাবু কিউবাকে আরও ঘায়েল করলেন ট্রাম্প

কিউবার হাভানায় মে দিবসে উদযাপন অনুষ্ঠানে জড়ো হয়েছেন বহু মানুষ। ইপিএ ফটো
কিউবার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে এই নিষেধাজ্ঞা দেন তিনি। পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে সেসব ব্যাংককে যারা মার্কিন নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিউবায় ব্যবসা করছে।
এই নিষেধাজ্ঞা কিউবার ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ প্রচেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে কিউবা। নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কিউবার অর্থনীতির সঙ্গে বিস্তৃতভাবে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন।
কিউবার জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, ধাতু ও খনিজ, আর্থিক পরিষেবা বা নিরাপত্তা খাত সংশ্লিষ্ট খাতে জড়িতদের লক্ষবস্তুতে পরিণত করবেন বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এতে আরও বলা হয়েছে, ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বা দুর্নীতিতে জড়িত বলে বিবেচিত কিউবার কর্মকর্তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া দিয়েছে কিউবার সরকার। একে দেশের সব মানুষের বিরুদ্ধে কালেক্টিভ পানিশমেন্ট (সম্মিলিত শাস্তি) বলে উল্লেখ করেছে, কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক ‘একতরফা জবরদস্তিমূলক’ পদক্ষেপগুলো দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দী করার পরেই ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল রপ্তানিতে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এতে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দেশটি। কিউবা দখল করে নেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। বলেছিলেন, আমরা কিউবাকে স্বাধীন করতে পারি, অধিগ্রহণ করতে পারি বা যা খুশি করতে পারি। আপনি সত্যিটা জানতে চান? ওরা এখন খুব দুর্বল রাষ্ট্র।
শুক্রবার ফ্লোরিডায় দেওয়া ভাষণে সেই হুমকিই পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, ‘ইরান থেকে ফেরার পথে আমাদের বড় জাহাজগুলোর মধ্যে একটা থাকবে– সম্ভবত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরী। আমরা এটি উপকূল থেকে ১০০ গজ দূরে থামাব। তারা (কিউবা) বলবে, আমরা হাল ছেড়ে দিচ্ছি।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও ডেইলি সাবাহ





