৬ মে থেকে চালু হতে পারে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
৪ মে নয়, কলকাতার পার্কস্ট্রিটের ব্যবসায়ীরা তাকিয়ে ৬ মে’র দিকে। আগামী ৬ মে বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য ভিসা স্বাভাবিক করতে পারে নয়াদিল্লি। এমনটাই জানিয়েছে সাউথব্লক সূত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাউথ ব্লকের এক কর্তা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসেই চালু হতে পারে পর্যটক ভিসা। তবে এই ব্যাপারে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং এ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও কাজ করছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর ওই কমিটির নেতৃত্বে। তিনি দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের প্রতিবেদনের ওপরও সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে।
এ সম্ভাবনার খবরে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশি পর্যটক ফিরে এলে আবারও ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব তৈরি হলেও বর্তমানে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ হয়েছে জোরদার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর এ প্রক্রিয়া এগিয়েছে বলে ধারণা। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন এবং ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার বিষয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। ৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে অজিত দোভালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ভারতীয় অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশকে দূরে রাখা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন ভারতের বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অর্থনৈতিক স্বার্থেই কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার জরুরি, আর সেই কারণেই ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে এর প্রভাব অনুভব করছেন। পার্ক স্ট্রিটের কাপড় ব্যবসায়ী মো. আদিল খান মন্তব্য করেন, বাংলাদেশি পর্যটকরা এলে প্রতিদিন দুই থেকে তিন লাখ টাকা বিক্রি হতো, এখন দিনে ৫০ হাজার টাকার বিক্রিও হচ্ছে না। একই এলাকার রিকশাচালক বিনোদ সাউ উল্লেখ করেন, আগে দিনে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা আয় হতো, এখন ৫০০ টাকাও হয় না। মির্জা গালিব স্ট্রিটের কস্তুরি, ভজহরি মান্না ও রাঁধুনির মতো রেস্তোরাঁগুলোতেও আগের মতো ভিড় নেই।
গেদে সীমান্তের ব্যবসায়ী আকাশ বিশ্বাস জানান, ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনার খবর পেয়ে তারা নতুন করে পণ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন। তার ভাষ্য, আগে বাংলাদেশি পর্যটকরা মোবাইল সিম, হ্যান্ডসেটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য কিনতেন, এখন পর্যটক না থাকায় ব্যবসা প্রায় স্থবির। সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে গেদে ও মাঝদিয়া অঞ্চলের ব্যবসা আবার সচল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, আগরতলা ল্যান্ড পোর্টের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দ্রুত সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে। তার মতে, পশ্চিমবঙ্গের ভোটপর্ব শেষ হলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নয়াদিল্লি থেকে কিছু নির্দেশনা পাওয়া গেছে এবং ৬ মে’র পর উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল সীমান্ত প্রথমে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের অন্যান্য স্থলবন্দরও চালু হতে পারে।



