কিউবাকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল’ করতে চান ট্রাম্প

সংগৃহীত ছবি
কঠোর জ্বালানি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই এবার কিউবাকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে’ দখলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৭ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের লনে টেক্সাস যাওয়ার আগে প্রেসিডেন্টশিয়াল হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’-এ ওঠার প্রস্তুতিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, কিউবা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং দেশটি বর্তমানে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, কিউবা সরকারের কাছে অর্থ নেই, এই মুহূর্তে তাদের কিছুই নেই। তবে তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে।
এরপরই তিনি যোগ করেন, হয়তো আমরা কিউবার একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দখল দেখতে পাব। শেষ পর্যন্ত আমরা খুব ভালোভাবেই কিউবাকে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল করে নিতে পারি।
এর আগে তিনি ইরান ও কিউবার মতো দেশগুলোতে নতুন সরকার দেখতে চান বলে মন্তব্য করেছিলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। বক্তব্যে ট্রাম্প কিউবাকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, দেশটি পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
ট্রাম্প জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওএ উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিউবান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত রুবিও দীর্ঘদিন ধরেই হাভানার সরকারের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল থেকে মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কিউবার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক কয়েক দশক ধরেই বৈরী। ১৯৬০-এর দশক থেকে দ্বীপ দেশটির ওপর পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে, যা কিউবার অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে।
এদিকে গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে একটি সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। ওই অভিযানে ভেনেজুয়েলার বাহিনীর পাশাপাশি কয়েকজন কিউবান সদস্য নিহত হন বলেও উল্লেখ করা হয়। এরপর কিউবার ওপর চাপ আরও জোরদার করে ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয়, ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল বা অর্থ সহায়তা বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি, কিউবাকে জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দেওয়া হয়।
জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মূলত জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হলে দেশটিতে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব পুনর্ব্যক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আগেই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ২০২৫ সালের অভিষেক ভাষণেও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আবারও একটি বর্ধিষ্ণু জাতি’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন, যেখানে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিতও ছিল।

