যুদ্ধের নিষ্ঠুর আঘাত, থমকে গেছে দুবাইয়ের পর্যটন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা

সংগৃহীত ছবি
যে দুবাই সবসময় পর্যটকদের ভিড়ে গমগম করত, সেই শহরের চেনারূপ এখন উধাও।
গত বছরও রেকর্ড ১৯.৫৯ মিলিয়ন পর্যটক পা রেখেছিলেন এই মরুশহরে। কিন্তু ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাবে এখন দিশেহারা দুবাইয়ের পর্যটন খাত।
অবস্থা এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, অনেক নামী রেস্তোরাঁ ও হোটেলের আয় নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়।
দুবাইয়ের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন ‘তাশাস’-এর মালিক নাতাশা সিডেরিস জানান, তার ব্যবসার অবস্থা এখন শোচনীয়। কোনো কোনো আউটলেটে বিক্রি কমেছে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। বাধ্য হয়ে তিনি নিজেরসহ ১০০০ কর্মীর বেতন ৩০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন।
নাতাশা সিডেরিস
নাতাশা হতাশ কণ্ঠে বলেছেন, ‘পরিস্থিতি খুবই নিষ্ঠুর। হয় আমাকে কর্মী ছাঁটাই করতে হতো, না হয় বেতন কমাতে হতো। আমি চাকরি বাঁচাতে বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
পাম জুমেইরার মতো দামি এলাকাগুলোতেও পর্যটকের দেখা নেই। কোনো কোনো হোটেলে বুকিং ১০-১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক ফাইভ স্টার হোটেল রুম ভাড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত পর্যটক।
কনফারেন্স বা বড় বড় ইভেন্টগুলো বাতিল হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত হোটেল মালিকদের।
যুদ্ধের প্রভাব শুধু রেস্তোরাঁতেই সীমাবদ্ধ নয়। হোটেল ও ট্র্যাভেল এজেন্সি থেকে শুরু করে পরিবহন ও বিমান সংস্থা— পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব শিল্পই চাপে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এয়ারডিএনএ-এর তথ্যমতে, যুদ্ধের প্রথম এক মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ এর বেশি শর্ট-টার্ম বুকিং বাতিল হয়েছে। আকাশসীমায় ড্রোন ও মিসাইল হামলার আতঙ্কে পর্যটকরা দুবাই আসতে ভয় পাচ্ছেন।
যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা হয়েছে, তবুও মাঝেমধ্যে পড়া ধ্বংসাবশেষের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক কাটছে না।
দুবাইয়ের হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের মেরুদণ্ড হলো দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কর্মীরা। কাজ কমে যাওয়ায় অনেককে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে, কারও বা ডিউটির সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক হোটেল কর্মী আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে সেই করোনার দিনগুলো আবার ফিরে এসেছে। চাকরি হারিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হবে কি-না, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।’
দুবাই সরকার অবশ্য বসে নেই। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোকে সহায়তার জন্য প্রায় ২৭২ মিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তারা। হোটেল ট্যাক্স এবং অন্যান্য ফি পরিশোধের সময়ও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের আশা, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হবে দুবাই।
যুদ্ধ শুধু প্রাণ কেড়ে নেয় না, কেড়ে নেয় সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির উপায়ও। দুবাইয়ের এই নিষ্ঠুর পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
সূত্র: বিবিসি

