ইতিহাস গড়ার পথে মিসরীয় বংশোদ্ভূত এই মুসলিম নেতা
মিশিগান সিনেটে আল সাইয়িদের জয়ে বাংলাদেশি ভোটের প্রভাব

ছবি: রয়টার্স
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির উত্থানের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় উঠে এসেছেন মিসরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মুসলিম রাজনীতিক আব্দুল আল সাইয়িদ। মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী বাছাইয়ে অল্প ব্যবধানে জয় পেয়ে তিনি এখন আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স।
মিশিগানের এই সিনেট আসনটি আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দলটি এই আসনে জয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।
ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেছেন আল সাইয়িদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাকে বিজয়ী ঘোষণা করার সময় গণনা করা ১৫ লাখেরও বেশি ভোটের মধ্যে তিনি ১৪ হাজার ৮৯৩ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ব্যবধান ছিল মোট ভোটের ১ শতাংশেরও কম।
মিশিগানের বাসিন্দা ও সাংবাদিক হেলাল উদ্দীন রানা জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যটিতে প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশি ভোটার রয়েছেন। তার দাবি, এদের প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন আল সাইয়িদ।
তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশি ভোটারদের সমর্থন না পেলে আল সাইয়িদের জয় কঠিন হয়ে যেত। এই ভোট তার বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
আব্দুল আল সাইয়িদ সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন। কংগ্রেসের ১০০ সদস্যের সিনেটে এই প্রথম কোনো মুসলিম প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করবেন।
মিশিগানের অনেক ভোটারের মতে, আল সাইয়িদের বিজয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে জনমতেরও প্রতিফলন। অঙ্গরাজ্যটিতে আরব বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাংলাদেশিসহ এশীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম ভোটারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ইরান সংঘাত এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মতো ইস্যুতে এসব ভোটারের একটি বড় অংশ ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতি অসন্তুষ্ট।
প্রাইমারিতে সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আল সাইয়িদ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে ভোটারদের একাংশের অসন্তোষকেও কাজে লাগিয়েছেন। তার বিজয়কে ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল ধারার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সাধারণ নির্বাচনে তার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি দলীয় প্রাইমারিতে বিভক্ত হয়ে পড়া ডেমোক্র্যাট ভোটারদেরও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে তাকে। বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মিশিগানের এই আসনের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আব্দুল আল সাইয়িদের বাবা-মা মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হন। তার জন্ম মিশিগানেই। তিনি মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি ও কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সফল হননি। সেই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই এবার সিনেটে যাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে আল সাইয়িদ জয়ী হলে তা শুধু মিশিগান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।




