মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদ ২০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা যুদ্ধমন্ত্রীর

যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ। ফাইল ছবি
মার্কিন সামরিক বাহিনীতে জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের জন্য নির্ধারিত পদ ২০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করেছেন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। বুধবার ভার্জিনিয়ার মেরিন কোর ঘাঁটি কোয়ান্টিকোতে ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ বক্তব্য দেওয়ার সময় হেগসেথ এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন।
কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও এ পরিকল্পনার খবর জানিয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, প্রায় ৮০০ জেনারেল ও ফ্ল্যাগ অফিসারের পদ নিয়ে গত বছর হেগসেথ যে ১০ শতাংশ ছাঁটাইয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন, এবার তার দ্বিগুণ করার নির্দেশ দেবেন তিনি। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে মোট ২০ শতাংশ পদ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফক্স নিউজ জানিয়েছে, নতুন ছাঁটাইয়ের আওতায় এক তারকা জেনারেল বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং নৌবাহিনীর সমমর্যাদার কর্মকর্তারা পড়তে পারেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মিলিয়ে কয়েক শ সামরিক কর্মকর্তার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গত কিছুদিনে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করার পর নতুন করে এই ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে হেগসেথের সঙ্গে মিলে দুই ডজনের বেশি সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এপ্রিলে সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল র্যান্ডি জর্জও ছিলেন।
চার তারকা পদমর্যাদার দায়িত্বে থাকা একমাত্র দুই নারী কর্মকর্তাকেও প্রশাসন সরিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। অন্য কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা অবসর বা পদত্যাগ করেছেন।
সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকলও এ মাসে পদত্যাগ করেছেন। হেগসেথের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে বিরোধের পর তিনি পদ ছাড়েন।
সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে পদ কমানোর উদ্যোগ প্রথম ঘোষণার সময় হেগসেথ বলেছিলেন, এর লক্ষ্য হলো নেতৃত্বের কাঠামোকে আরও কার্যকর ও সহজ করা। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশিত এক স্মারকে তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীকে ‘অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক স্তর’ থেকে মুক্ত করাই তার উদ্দেশ্য।
গত বছরও হেগসেথ সামরিক বাহিনীতে ‘ওক’ সংস্কৃতি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সময়ে তিনি সেনাদের শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় ‘লিঙ্গ-নিরপেক্ষ’ বা ‘পুরুষদের মানের’ শারীরিক সক্ষমতার মানদণ্ড চালুর নির্দেশ দেন।
হেগসেথের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য রোড আইল্যান্ডের সিনেটর জ্যাক রিড।
এক বিবৃতিতে রিড বলেছেন, জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের পদ কমানোর সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া উচিত। প্রস্তাবিত ছাঁটাই নিয়ে তিনি বলেন, এটি ‘প্রতিটি আমেরিকানকে উদ্বিগ্ন করা উচিত’।
রিড বলেছেন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া ও পদোন্নতি আটকে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে হেগসেথকে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হয়েছিল। তবে এখনো সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে এবং এরই মধ্যে বাহিনীর ওপর চাপ রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর জেনারেল ও অ্যাডমিরাল পদসংখ্যা নির্ধারিত থাকে। তবে প্রশাসন কংগ্রেসে কোনো কর্মকর্তার নাম না পাঠালে এসব পদ খালি রাখা যায়।
সূত্র: আলজাজিরা




