আমেরিকান জনগনের প্রতি ইরানের খোলা চিঠি
- মধ্যবর্তী নির্বাচনে অশুভ, প্রতারক ও সহিংস রাজনীতিবিদদের সরিয়ে দিন

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হবে না। কিন্তু কংগ্রেসের উভয় কক্ষ সিনেট ৩২টি (মোট ১০০) ও হাউজের ৪৩৫টি আসনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিক্যান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। অধিকাংশ জরিপে বলা হচ্ছে, ইরান যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের দল পরাজয় বরণ করবে এবং ডেমোক্রেটরা কংগ্রেসে মেজোরিটি পার্টি হিসেবে ফিরে আসবে। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে ওয়ািংটনে।
এমতাবস্থায় ইরান যুদ্ধই হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজনীতির কেন্ত্র বিন্দু।নির্বাচনের আর ৩৩ দিন বাকী রয়েছে।
এমনি এক পরিস্থিতিতে ইরান বোমা ফাটিয়েছে মার্কিন জনগনের প্রতি লেখা ২৬ পৃষ্ঠার এক চিঠি প্রকাশ করে। ইরানের ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, কংগ্রেসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদের ভোট না দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করুন। বুধবার প্রতিবেশী ইরাকে থাকা অবশিষ্ট ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন বাহিনীর সরে যাওয়ার কথা ছিল। যে ঘটনাটিকে তেহরান বিজয় হিসেবে উদযাপন করছে। আর এ দিনই মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ইরানের এমন আহবান ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলেছে।
অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাতার তার 'শাটল ডিপ্লোম্যাসি' বা মধ্যস্থতাকারী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। ট্রাম্প আবারও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে ইরান দ্রুতই আত্মসমর্পণ করবে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত গার্ড বাহিনীর ওই ২৬ পৃষ্ঠার চিঠিতে আমেরিকানদের তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বর্তমান নেতাদের ক্ষমতা থেকে সরানোর এবং ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থন ও বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের নীতি বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
যদিও এই বার্তাটি মার্কিন ভোটারদের প্রভাবিত করার সম্ভাবনা কম। কারণ ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই লেখাটি হয়তো তাদের অনেকেরই নজরে আসবে না। তবুও এতে এমন কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে যা মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির বিপক্ষে কাজ করছে। ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা আইনসভার একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে পারলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, "আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী সেই সব অশুভ, প্রতারক ও সহিংস রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিন। আপনার রাজনীতিবিদদের এটা বোঝান যে পৃথিবী বদলে গেছে।"
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানো, বিদ্যমান সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; অথচ ইসরায়েলের সাথে মিলে তাঁর শুরু করা ইরান—সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোস—এর এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন—যা নভেম্বরের নির্বাচনে আমেরিকানদের ভোটদানের সিদ্ধান্ত নির্ধারণকারী প্রধান বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরানের ওপর চালানো হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ মানুষ।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স



