আমেরিকার উপকূলে আজও বেঁচে আছে যে আফ্রিকা

গাল্লা-গিচি সংস্কৃতির জন্ম মূলত সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে।
দক্ষিণ -পূর্ব আমেরিকার উপকূলজুড়ে আজও টিকে রয়েছে আফ্রিকার এক টুকরো সংস্কৃতি। ভাষা, গান, খাবার, নাচ, ধর্মীয় রীতি এবং হস্তশিল্পের মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন গাল্লা-গিচি সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের পূর্বপুরুষদের পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা থেকে দাস হিসেবে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়েও হারিয়ে যায়নি তাদের শিকড়।
গাল্লা-গিচি সংস্কৃতির জন্ম মূলত সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলাইনা ও আশপাশের এলাকায় তখন আফ্রিকা থেকে বহু মানুষকে জোর করে এনে বিভিন্ন বাগানে কাজ করানো হত। ধান, নীল এবং তুলা চাষে তাদের কৃষি- জ্ঞান কাজে লাগানো হয়েছিল। উপকূলের দ্বীপ ও জলাভূমির বিচ্ছিন্ন পরিবেশ তাদের আফ্রিকান সংস্কৃতির অনেক কিছু ধরে রাখার সুযোগ দেয়।
এই সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা গাল্লা। ইংরেজি থেকে বহু শব্দ এলেও আফ্রিকার বিভিন্ন ভাষার প্রভাব এই ভাষায় স্পষ্ট। যেমন ‘ওনা’ অর্থ ‘তোমরা সবাই’ এবং ‘ন্যাম’ অর্থ ‘খাওয়া’। ‘কুটার’ বা কচ্ছপ শব্দটির সঙ্গে পশ্চিম আফ্রিকার কিছু ভাষার যোগ রয়েছে বলেও মনে করা হয়।
খাবারেও রয়েছে সেই আফ্রিকান শিকড়। স্থানীয় মাছ, সবজি ও শস্যের সঙ্গে আফ্রিকান রান্নার পদ্ধতি মিশে তৈরি হয়েছে গাল্লা- গিচি খাবার। লো-কান্ট্রি রেড রাইস, পারলু, গাম্বো এবং হপিন জন তাদের পরিচিত খাবার। আফ্রিকার সঙ্গে মিল রয়েছে তাদের ঝুড়ি তৈরির শিল্পেও। স্থানীয় ঘাস, খাগড়া, তালপাতা ও পাইন দিয়ে তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী ঝুড়ি।
সংগীত ও ধর্মীয় সংস্কৃতিতেও সেই যোগ স্পষ্ট। ‘রিং শাউট’ নামে একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনায় মানুষ গোল হয়ে দাঁড়িয়ে পা মাটিতে ঠোকেন, হাততালি দেন এবং একজনের গানের জবাবে বাকিরা গান করেন। আফ্রিকার পুরনো সংগীত ও ধর্মীয় রীতির সঙ্গে এর মিল রয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ নিজেদের গাল্লা-গিচি ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন। উত্তর ক্যারোলাইনা থেকে দক্ষিণ ফ্লোরিডা পর্যন্ত প্রায় ৮০৪ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে তৈরি গাল্লা-গিচি কালচারাল হেরিটেজ করিডর। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর এই করিডরকে জাতীয় ঐতিহ্য এলাকা হিসেবে স্বীকৃতির ২০ বছর পূর্ণ হবে।
তবে ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার লড়াই এখনও শেষ হয়নি। পূর্বপুরুষের জমি হারানো, বসতি উচ্ছেদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ রয়েছে। তবু ভাষা, খাবার, গান ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে গাল্লা-গিচি মানুষ আজও তাদের আফ্রিকান শিকড়কে বাঁচিয়ে রেখেছেন।



