২ বছরে ২৫ হাজার অভিবাসীকে নির্বাসন
অবৈধদের নির্বাসনে পাঠানোর ট্রাম্পের নীতি বাতিল করলো আদালত

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ/কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের (ইমিগ্রান্ট) তৃতীয় কোন দেশে নির্বাসনে পাঠানোর ট্রাম্পের আদেশ বাতিল করলো ফেডারেল আপীল কোর্ট। ট্রাম্পের নীতিতে ডিপোর্টের আওতায় কোন অভিবাসী নিজ দেশে ফেরত যেতে না চাইলে ৬ ঘন্টার নোটিশে তাকে তৃতীয় দেশগুলোতে (অধিকাংশই আফ্রিকান দেশ) নির্বাসনে পাঠাতো। এসব দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে উগান্ডা, গিনি, লাইবেরিয়া এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের দেশগুলো। ইতোমধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন ২৯টি দেশে ২৫ হাজার অবৈধ/কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত নীতিটি বাতিল করেছে। এই নীতির আওতায় কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা জানানোর সুযোগ না দিয়েই তাদের নিজ দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশে দ্রুত নির্বাসন দিতে পারত। বোস্টন—ভিত্তিক 'ফাস্টর্ ইউএস সার্কিট কোর্ট অফ আপিলস' এর তিন বিচারকের একটি প্যানেল নিম্ন আদালতের বিচারকের ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্তটি মূলত বহাল রেখেছে। ঐ রায়ে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নীতিটিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে আপীল বিভাগের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে যেতে পারে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।
নির্বাসন আদেশের মুখে পড়া অভিবাসীদের দায়ের করা একটি 'ক্লাস—অ্যাকশন' (যৌথ) মামলার প্রেক্ষিতে এই রায়টি এসেছে। কোনো ব্যক্তির সাথে কোনো সংযোগ নেই এমন দেশে তাদের পাঠানোর আগে সরকারকে কী ধরনের আইনি সুরক্ষা বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে—তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মামলাটি।
ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিটিগেশন অ্যালায়েন্সের আইনজীবী এবং বাদীদের পক্ষের প্রতিনিধি ট্রিনা রিয়ালমুটো বলেন, "এই সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করে যে, নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কংগ্রেস যেসব সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার যে বিধান রয়েছে, তা কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো দেশে বিমানে পাঠিয়ে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না—যে দেশটি তাদের নির্বাসন প্রক্রিয়ার অংশই ছিল না।" 'রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল' এবং 'হিউম্যান রাইটস ফাস্টর্'—এর যৌথ প্রকল্প 'থার্ড কান্ট্রি ডিপোর্টেশন ওয়াচ'—এর তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে এমন বেশ কিছু চুক্তি করা হয়েছে যার ফলে ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে অন্তত ২৯টি তৃতীয় দেশে (যার মধ্যে মেক্সিকোও অন্তর্ভুক্ত) পাঠানো হয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল 'এক্স' এ জানিয়েছেন যে, এই নীতিটি এখনও কার্যকর রয়েছে কারণ 'ফাস্টর্ সার্কিট'—এর সিদ্ধান্তটি এখনও কার্যকর হয়নি। তিনি বলেন, "যদি আপনি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে ভয়ের কথা জানান, তবে আপনাকে অন্য কোথাও পাঠানোর অধিকার ডিএইচএস’র রয়েছে।"
তৃতীয় দেশে বহিষ্কার প্রক্রিয়া
২০২৫ সালের মার্চ মাসে, ডিএইচএস এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে একটি নীতি গ্রহণ করে যাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ রয়েছে, কিন্তু অভিবাসন আদালতে নিজ দেশে ফেরত না পাঠানোর সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে।
এই নীতির আওতায় অভিবাসীদের বিকল্প কোনো দেশে পাঠানো সম্ভব হবে, যদি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে এমন বিশ্বাসযোগ্য কূটনৈতিক নিশ্চয়তা থাকে যে সেখানে তাদের ওপর কোনো নিপীড়ন বা নির্যাতন চালানো হবে না।
এমনকি কোনো তৃতীয় দেশ যদি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এ ধরনের নিশ্চয়তা নাও দিয়ে থাকে, তবুও সেখানে অভিবাসীকে পাঠানোর আগে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল এই নীতিতে।
ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জাজ ব্রায়ান মারফি এই নীতিটি বাতিল করেন। তিনি অভিমত দেন যে, এই নীতি অভিবাসীদের আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে । এর ফলে কোনো পূর্ব—নোটিশ ছাড়াই তাদের অপরিচিত ও সম্ভাব্য বিপজ্জনক দেশগুলোতে দ্রুত বহিষ্কার ঝুঁকির হতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স



