ট্রাম্পের ভাষণে উধাও যুদ্ধের সমাধান

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে হামলা চালানোর এক মাস পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস থেকে স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ট্রাম্পের দেওয়া ২০ মিনিটের এ ভাষণ ঘিরে জল্পনা ছিল বেশ। তবে ভাষণে তিনি যেসব কথা বলেছেন, তা মূলত গত কয়েক দিনের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি।
ট্রাম্পের ভাষণে বরাবরের মতো মার্কিন বাহিনী ‘জয়ের খুব কাছাকাছি’, হামলা আরও তীব্রতর এবং ইতিবাচক ফলাফলের আশ্বাস। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এই ভাষণ ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ট্রাম্পের পোস্টগুলোর অংশবিশেষও বলা যেতে পারে।
চলমান যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে এর পক্ষে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন ট্রাম্পে। এর কারণ জরিপগুলো বলছে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অধিকাংশ মার্কিনী সমর্থন দিচ্ছেন না।
যুদ্ধের বর্তমান বাস্তবতায় যে প্রশ্নগুলোর উত্তর বেশি প্রয়োজন ছিল, সেগুলো একেবারেই এড়িয়ে গেছেন ট্রাম্প। যুদ্ধ কোন দিকে যাচ্ছে, সম্ভাব্য সমাধান কী বা ওয়াশিংটন কীভাবে বেরিয়ে আসবে; তার কোনো উত্তর ছিল না ভাষণে।
মার্কিন যুদ্ধসঙ্গী ইসরায়েলের অবস্থান কি, সে বিষয়েও মুখ খোলেননি ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ‘ট্রাম্পঘোষিত হামলা’র সময়সীমা বাড়ানোর সঙ্গে একমত কিনা, সে বিষয়েও ধারণা দেওয়া হয়নি বক্তব্যে।
এছাড়া হোয়াইট হাউস যে ১৫ শান্তি প্রস্তাব তেহরানকে দিয়েছিল, ইরান তা গ্রহণ করেছে কিনা বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ফেরত পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ ছিল না।
ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে পদক্ষেপ কি হবে— প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো অবস্থান নিয়েছেন কিনা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত না বলে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ শেষ হলে প্রণালী স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। এ সময় তিনি মিত্রদের হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নিতে শুরু করা হাজার হাজার নৌ সেনা ও প্যারাট্রুপারদের কি হবে, সেটিও অমীমাংসিত রেখেছেন ট্রাম্প। যদিও ভাষণের পুরো সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধকে বিজয় হিসেবে চিত্রিত করেছেন।
অপরদিকে ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। পেট্রোলের গড় দাম ৪ বছরে প্রথমবারের মতো ৪ ডলার অতিক্রম করেছে।

