৯৪ বছর পর ডেমোক্র্যাটরা ক্যানসাসে জিতবেন?
- কৃষকদের ৮ বিলিয়ন ডলার দেবার ঘোষণা আতংকিত ট্রাম্পের

ক্যানসাস সফরকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
কৃষির রাজ্য ক্যানসাস। রক্ষনশীল একটি স্টেট। রিপাবলিক্যানদের ঘাঁটি। জ্বালানি ও কৃষিপণ্যের উচ্চমূল্য রিপাবলিকান ভোটারদের আনুগত্যের পরীক্ষা চলছে সেখানে। গত ৯৪ বছরে সিনেট নির্বাচনে কোন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয় লাভ করতে পারেনি। এবার চিত্রটি ভিন্ন। হাতছাড়া হবার পথে আসনটি। রিপাবলিক্যান পার্টি ও প্রেসিডেন্ট শংকিত। দলীয় প্রার্থীর প্রচারনায় এসে ট্রাম্প ঘোষণা দিলেন, মার্কিন কৃষি বিভাগ একটি “হারভেস্ট ফুয়েল রিলিফ প্রোগ্রাম” (ফসল তোলার মৌসুমে জ্বালানি সহায়তা কর্মসূচি) চালু করবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের ৮ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে, যা ফসল তোলার মৌসুমে ডিজেলের বাড়তি খরচের বোঝা কমাতে সাহায্য করবে। ভোটের আগে ক্ষুব্ধ কৃষকদের আশার বাণী।
সিনেটের এই আসনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন একজন মেগাচার্চের যাজক। রিপাবলিকান মার্কিন সিনেটর রজার মার্শালের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা পোল এবং এমারসন কলেজ পোলিং উভয়ের জরিপ অনুযায়ী, এমন একটি রাজ্যে এই লড়াই হচ্ছে যেখানে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালে ৫৭ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। আর এবার সিনেট নির্বাচনের চিত্রটাই বিপরীত।
এই অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইটি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটির টানাপোড়েনকে প্রতিফলিত করে। যেখানে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, প্রায় রেকর্ড—উচ্চ ডিজেলসহ কৃষিপণ্যের আকাশছোঁয়া খরচ এবং ট্রাম্পের অভিবাসন দমন নীতির প্রতি অসন্তোষ এই অঞ্চলের প্রগতিশীল জনতাবাদী ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।
গৃহযুদ্ধের ২০ বছর পর ১৮৮৫ সালে ভ্যান্স এমকের পূর্বপুরুষরা পশ্চিম কানসাসে কৃষিকাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন—ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান খরচ তাকে তার খামার এবং আশেপাশের অন্যান্য খামারগুলোর জন্য এক অন্ধকার ভবিষ্যতের কথা ভাবাচ্ছে। এমকে বলেন, গত এক বছরে আমরা জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ হতে দেখেছি। এর ফলে আমাদের ৫০,০০০ ডলারের অপ্রত্যাশিত ব্যয় বেড়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি ও সারের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কৃষি যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য ব্যবহৃত ডিজেলের দাম যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রভাব কানসাস, আইওয়া এবং নেব্রাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে পড়েছে। সেখানে স্থানীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি।
আইওয়া অঙ্গরাজ্যের জনমত জরিপ অনুযায়ী, রিপাবলিকান জনি আর্নস্টের ছেড়ে দেওয়া সিনেট আসনের জন্য রিপাবলিকান প্রতিনিধি অ্যাশলি হিনসন এবং ডেমোক্র্যাট জশ টুরেক—এর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হিনসন ইরান যুদ্ধের “অবিলম্বে সমাপ্তি” দাবি করেন। তিনি লেখেন, আইওয়ার বাসিন্দাদের “যুদ্ধের জন্য জ্বালানি পাম্পে বা কেনাকাটার সময় বাড়তি মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়।” যদিও তার দলের প্রেসিডেন্টই এই যুদ্ধের হোতা।
নেব্রাস্কাতে রিপাবলিকান সিনেটর পিট রকেটস স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান অসবর্ন—এর কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন—যদিও ২০২৪ সালে ট্রাম্প এই অঙ্গরাজ্যে ২০ পয়েন্টেরও বেশি ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটরা সর্মথন দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান অসবর্নকে।
ইমিগ্রেশন বিরোধী ট্রাম্পের নানা অভিযানও ক্যানসাস, আইওয়া ও নেব্রাস্কার মতো স্টেটগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের বেকায়দায় ফেলেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ কানসাসের মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইস) বা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার এজেন্টরা ডজ সিটি, গার্ডেন সিটি, লিবারেল এবং এর আশেপাশের এলাকা থেকে ১০৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গরুর মাংসের উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের মধ্যেই এই অভিযানগুলো চালানো হয়। এর ফলে কার্গিল ও ন্যাশনাল বিফ এর মতো বড় প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম ধীর হয়ে পড়ে। কারণ গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে অনেক কর্মী কাজে আসেননি। এই অভিযানগুলো ওই শহরগুলোর প্রথাগত রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থানেও প্রভাব ফেলছে ।
ক্যানসাসের উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটির ‘আইকেই ল্যাব’ এর গবেষক ও অধ্যাপক আলেকজান্দ্রা মিডলউড বলেছেন, যেসব কাউন্টিতে আইস এর অভিযান চালানো হয়েছিল, সেখানে সেপ্টেম্বর মাসে ভোটার নিবন্ধনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অর্থ রিপাবলিক্যানদের জন্য অশুভ বার্তা। নতুন নাগরিকদের সিংহভাগ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের ভোট দিয়ে থাকে।



