ইরান আক্রমণ করা উচিত হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের, ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ইরানে সামরিক আক্রমণ করা উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফক্স নিউজ়কে দেওয়া শনিবারের সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন ট্রাম্প।
ইরাক যুদ্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, ইরাকে যাওয়াই উচিত হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর। সেই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘ইরাকে কী হয়েছে আপনারা দেখেছেন। আমরা খুবই খারাপ করেছি। খুব বোকার মতো কাজ করেছি। আমাদের ওখানে যাওয়াই উচিত হয়নি।’
ইরাক নিয়ে কথা বলতে বলতে ট্রাম্প নিজেই ইরানের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের ইরানেও যাওয়াও উচিত হয়নি।’
এর পরেই অবশ্য যুদ্ধে যাওয়ার নিজের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘ইরানের অনেক ক্ষমতা রয়েছে। ন’মাস আগে যদি আমরা বি২ বম্বার দিয়ে ওদের আঘাত না করতাম, এত দিনে ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র চলে আসত। পুরো গল্পটাই পাল্টে যেত।’
তিনি স্পষ্ট করেন, ‘আমেরিকা ইরানকে আক্রমণ না-করলে আমরা হয়তো এখন আর ইসরায়েলকে দেখতে পেতাম না। হয়তো মধ্যপ্রাচ্য আর থাকত না। তার পর আমরা কোথায় যেতাম?’
ট্রাম্প মনে করেন, ইরানের সেনাবাহিনীকে জেনেশুনে ‘রেহাই’ দিয়েছে আমেরিকা। তিনি বলেছেন, ‘ইরানের সামরিক বাহিনীকে আমরা কিছুটা একা ছেড়ে দিয়েছি। কারণ, আমরা মনে করি, ইরানের সামরিক বাহিনী কিছুটা মধ্যপন্থী। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। অনেক নেতৃত্বকে সরিয়েছি। ওদের একা ছেড়ে দিয়েছি।’
ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকার আক্রমণের ফলে ইরানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা আগামী ৪০ বছরেও তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। এই আক্রমণ তাই প্রয়োজনীয় ছিল বলে মনে করছেন তিনি।
ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলাকে আমেরিকার অনেকেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মনে করছেন। প্রকাশ্যে নিজের দেশেই সমালোচিত হচ্ছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের একটি বড় অংশ ট্রাম্পের এই অতিআগ্রাসী যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকায় ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হয়েছে।
সূত্র : ফক্স নিউজ






