ইলহান ওমরকে কারাদণ্ড ও বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
- অভিবাসন নথি নিয়ে তদন্ত, অভিযোগ অস্বীকার করেন ইলহান!

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরকে কারাগারে পাঠানো কিংবা দেশ থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনার কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমালি বংশোদ্ভূত এই আইনপ্রণেতার অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তদন্তের মধ্যে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুরে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে প্রতারণার তথ্য জানালে পুরস্কার দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ট্রাম্প বলেছেন, ইলহান ওমরের কারাদণ্ডও হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি ইলহান ওমর ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় জমা দেওয়া অভিবাসন নথিতে কোনো তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটনে ওমরের বাসায় তল্লাশি চালান ফেডারেল কর্মকর্তারা। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে পরীক্ষা করছেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় তার বয়স সম্পর্কে কোনো তথ্য ভুলভাবে দেওয়া হয়েছিল কি না। ওমর ১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে নাগরিকত্ব পান।
ওমর তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তদন্তটি রাজনৈতিকভাবে তাকে চাপে রাখার প্রচেষ্টার অংশ। তার আইনজীবীরা বাসায় তল্লাশির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং জব্দ করা সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ওমরের অভিবাসন নথি পর্যালোচনা করা হয়েছিল। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই পর্যালোচনায় কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে বর্তমান তদন্তের ফল কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলাকালে কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ট্রাম্পের বক্তব্যও নিজে থেকে ওমরের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করে না।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতি, নাগরিকত্ব এবং রাজনৈতিক বিরোধের প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে। তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ওমরের আইনজীবীদের আইনি চ্যালেঞ্জের ফলাফলের ওপর এখন নজর থাকবে।



