যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন মুসলিম আব্দুল আল সাইয়িদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশরীয় বংশোদভূত রাজনীতিক আব্দুল আল সাইয়িদ। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ৪২ বছর বয়সী মিশরীয় বংশোদভূত রাজনীতিক আব্দুল আল সাইয়িদ। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ কক্ষ সিনেটে মিশিগান স্টেট থেকে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন তিনি। আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তা চূড়ান্ত হবে। এ নির্বাচনে তিনি মুখোমখি লড়বেন রিপাবলিক্যান প্রার্থী জন জেমস এর বিরুদ্ধে।
তিনি বুধবার ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে নিশ্চিত বিজয়ের পথে সাইয়িদ। তিনি শতকরা ৫০ ভাগ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। প্রাপ্ত ভোট ৩ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নিজ দলের প্রার্থী হেলি স্টিভেন পেয়েছেন ৪৬%।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬৭ ভাগ ভোট গনণা শেষ হয়েছে। আব্দুল আল সাইয়িদ নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন প্রথম মুসলিম সিনেটর। কংগ্রেসের ১০০ সদস্যের সিনেটে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নেতৃত্ব দিবেন।
মিশিগান স্টেটের অধিবাসী, ভোটার ও কবি বাংলাদেশি ইশতিয়াক রুপুর সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি আগামীর সময়কে বলেছেন, মিশিগান সহ গোটা আমেরিকায় আমরা ইতিহাস গড়তে যাচ্ছি। যেমনটি গড়েছি আমরা লন্ডনে মি. খান ও নিউইয়র্ক সিটিতে মামদানিকে মেয়র নির্বাচিত করে। এবার তেমনটি হবে মিশিগানে।
তিনি বলেছেন, মিশিগানের বড় একটি অংশ আরব বংশোদভূত । এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশিসহ এশিয়ান আমেরিকান মুসলিমরা। নানা কারনে এসব ভোটার ট্রাম্প প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ও গাজায় ইসরায়েলি হত্যাকান্ড মুসলমানরা মেনে নিতে পারে নি। সাইয়িদ এর বিজয় ট্রাম্পের ওপর অনাস্থার প্রতীক। মুসলমানরা নিজেদের কথা বলার জন্যই সাইয়িদকে নির্বাচিত করে সিনেটে পাঠাতে চায়।
রুপু বলেছেন, আমি নিজেও তার জন্য ক্যাম্পেইন করেছি। মসজিদে গিয়ে তার জন্য ভোট চেয়েছি। ডোনেশন দিয়েছি নির্বাচনী ফান্ডে। আসল নির্বাচন হবে নভেম্বরে। আর লড়তে হবে রিপাবলিক্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এখন সে প্রস্তুতি নেবার পালা।
মিশিগানের প্রবীণ সাংবাদিক হেলাল উদ্দীন রানা আগামীর সময়কে বলেছেন, গত নির্বাচনে অনেক মুসলমান ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। এখন তারা অনুশোচনা করেন। ইমিগ্রেশন, গাজা ও ইরান ইস্যুতে মুসলমানরা এবার একট্টা।
তারা সিনেটে নিজেদের প্রার্থী পাঠিয়ে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চায়। এ ছাড়া লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থী হিসেবে পরিচিত সিনেটর বার্ণি স্যান্ডারস ও কংগ্রেসওমেন ওকাসিও কর্টেজও এই প্রাইমারি নির্বাচনে সাইয়িদের জন্য কাজ করেছেন। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে চূড়ান্তভাবে সাইয়িদ জিতলে অপেক্ষা করতে হবে নভেম্বরের সাধারন নির্বাচনের জন্য। সেখানে জিতলে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের জন্য রচিত হবে এক নতুন ইতিহাস।
উল্লেখ্য আব্দুল আল সাইয়িদ এর পিতামাতা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। সাইয়েদেও জন্ম মিশিগানেই। মিশিগান স্টেট ইউনিভারসিটি ও বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়া ইউনিভারসিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালে স্টেট গর্ভনর পদে নির্বাচন করে সফলতা পাননি। ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে সিনেটর হবার স্বপ্ন নিয়ে এগুচ্ছেন আব্দুল আল সাইয়িদ।




