ওয়াশিংটন পোষ্টের প্রতিবেদন
অস্ত্রের ঘাটতির কারণে বড় আক্রমণে যাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া এবং চলমান সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে পেন্টাগন। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন আরও বড় পরিসরের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক বিমানও পাঠানো হচ্ছে।
তবে একই কর্মকর্তা জানান, পেন্টাগনের হাতে পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নেই। চলমান যুদ্ধে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির কারণে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত মোতায়েনের সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, নিরাপদভাবে দীর্ঘ সময় সামরিক অভিযান চালিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্রভান্ডার যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। তার দাবি, এই সীমাবদ্ধতার পুরো চিত্র হয়তো হোয়াইট হাউসেরও জানা নেই।
এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা আরও তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থানে আরও এক মার্কিন সেনার দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইরাকে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংসের সময় আরেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জর্ডানে দুই সেনার মৃত্যুর জবাবে রোববার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তার ভাষ্য, নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণস্থল, সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় কূটনীতির পথ খোলা রাখতে চায়। তবে সেই উদ্যোগ হতে হবে বাস্তবসম্মত এবং ইরানকে যেকোনো সমঝোতা মেনে চলার প্রস্তুতি থাকতে হবে।




