লেক অন্টারিওর পাড়ে ‘বিশাল’ সাইনবোর্ড বসাল কানাডা

সংগৃহীত ছবি
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ চলছে নানা বিষয়ে। এরমধ্যে ‘লেক অন্টারিও’র নামকরণ একটি। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু তাতে বাস্তবতা বদলাবে না বলে মনে করে কানাডা।
এরই ধারাবাহিকতায় ‘লেক অন্টারিও’র কানাডার অংশে স্থাপন করা হয়েছে এ নামে ‘বিশাল’ সাইনবোর্ড। এটি করেছেন অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড।
সাইনবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ফোর্ড বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনেক আগে থেকেই এই হ্রদের নাম লেক অন্টারিও। ট্রাম্প চলে যাওয়ার বহু বছর পরও এর নাম লেক অন্টারিওই থাকবে।’
সম্প্রতি বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। জবাবে আগামী মাস থেকে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। এর মধ্যেই লেকটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আদেশটি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি ভৌগোলিক নামের তথ্যভান্ডারে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
কানাডা শুরু থেকেই ট্রাম্পের এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এর ফলে কানাডার সরকারি নথি ও ব্যবহারে হ্রদটির নাম ‘লেক অন্টারিও’ই থাকছে।
অন্টারিও প্রদেশের সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ভৌগোলিক স্থানের নাম কীভাবে সরকারি ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যাপক ক্ষমতা আছে। তবে অন্য দেশকে সেই নাম অনুসরণ করতে বাধ্য করার ক্ষমতা তার নেই।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেকটি নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘লেক অন্টারিও’ লেখা একটি সাইনবোর্ড লাথি মেরে ফেলে দিয়ে সেখানে ‘ওয়েলকাম টু লেক আমেরিকা’ লেখা নতুন সাইনবোর্ড বসানো হচ্ছে।
ফোর্ড দাবি করেছেন, কানাডা ও অন্টারিও নিজেদের স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় ট্রাম্প লেকটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
নতুন সাইনবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা অন্য কেউ যেন ভুলে না যান, সে জন্যই আমরা এই সাইনটি স্থাপন করেছি। এটি ‘লেক অন্টারিও: এখন এবং সবসময়’।
এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিলেন।
কার্নিও বলেছেন, কোনো কিছুকে তার নিজস্ব নামেই ডাকা উচিত। এই হ্রদের নাম লেক অন্টারিও এখন আছে আর ভবিষ্যতেও থাকবে।
লেক অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত পাঁচটি ‘গ্রেট লেক’-এর একটি। এটি পাঁচটির মধ্যে সবচেয়ে ছোট। এর এক পাশে কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং অন্য পাশে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য।
এর আগেও ২০২৫ সালে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প।
মেক্সিকো সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছিল, দুই দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক জলভাগের নাম একতরফাভাবে কোনো দেশ পরিবর্তন করতে পারে না।
এ নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের সঙ্গেও আইনি বিরোধ তৈরি হয় মেক্সিকোর।
পরে গুগল ম্যাপসে ব্যবহারকারীর অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন নাম দেখানোর ব্যবস্থা করে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা সেখানে ‘গালফ অব আমেরিকা’, মেক্সিকোর ব্যবহারকারীরা ‘গালফ অব মেক্সিকো’ এবং অন্যান্য দেশের ব্যবহারকারীরা ‘গালফ অব মেক্সিকো (গালফ অব আমেরিকা)’ নামটি দেখতে পেয়ে থাকেন।







