নিউ ইয়র্ক সিটিই বিশ্বের শীর্ষ শহরের মর্যাদায়

নিউ ইয়র্ক সিটি
নিউ ইয়র্ক সিটিই বিশ্বের শীর্ষ শহরের মর্যাদা পেল। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস কর্তৃক মূল্যায়িত এক হাজারটি প্রধান শহরের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে নিউ ইয়র্ক সিটি। তা ২০২৬ গ্লোবাল সিটিস ইনডেক্স'-এ শীর্ষে উঠে এসেছে। এই সূচকে নিউ ইয়র্ক লন্ডন ও প্যারিসকে পেছনে ফেলেছে। এই শহর দুটি যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকস অর্থনীতি, মানবসম্পদ (হিউম্যান ক্যাপিটাল), জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ এবং শাসনব্যবস্থা— এ বিষয়গুলোর ভিত্তিতে শহরগুলোকে মূল্যায়ন করে একটি সামগ্রিক স্কোর প্রদান করে। নিউ ইয়র্ক সামগ্রিক স্কোরে পূর্ণ ১০০.০ পয়েন্ট অর্জন করেছে, যা অর্থনীতিবিষয়ক ক্যাটাগরিতে তার প্রথম স্থান অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শহরটির মানবসম্পদ স্কোর ছিল ৮৯.৫। এটি শহরের শক্তিশালী মেধাসম্পদ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মী বাহিনী এবং দক্ষ কর্মী আকর্ষণের সক্ষমতাকে প্রতিফলিত করে। পাশাপাশি, জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক ৮০.৮ স্কোর পেয়েছে। এই মানদণ্ডটি সামগ্রিক সুস্থতা, আয়, স্বাস্থ্যগত ফলাফল, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং বসবাসের উপযুক্ততা বা 'লিভেবিলিটি'র মতো বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে।
পরিবেশগত মানদণ্ডে শহরটি ৭২.৮ স্কোর অর্জন করেছে। এই স্কোরের মাধ্যমে মেট্রোপলিটন এলাকার পরিবেশের গুণমান, স্থায়িত্ব, সহনশীলতা এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকির বিষয়টি পরিমাপ করা হয়েছে। শাসনব্যবস্থা বা 'গভর্ন্যান্স'-এর ক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক ৭৫.৭ স্কোর পেয়েছে, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর গুণমান, স্থিতিশীলতা এবং সরকারি কার্যকারিতা তুলে ধরে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের মতে, নিউ ইয়র্কের এই শীর্ষ অবস্থানের পেছনে প্রধান কারণ হলো এর বিশাল অর্থনীতি এবং শক্তিশালী শ্রমবাজার। শহরটির মেট্রোপলিটন অর্থনীতি বিশ্বের বৃহত্তম। এর আকার টোকিও এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের অর্থনীতির সম্মিলিত আকারের প্রায় দ্বিগুণ।
অর্থনৈতিক বিশালতার পাশাপাশি, নিউ ইয়র্ক করপোরেট সদর দপ্তর, বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়, বৈচিত্র্যময় শিল্প খাত এবং বিশ্ব জুড়ে দক্ষ কর্মী আকর্ষণের শক্তিশালী সক্ষমতার সুফল ভোগ করে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস আরও উল্লেখ করেছে যে, ২০২৬ সালের এই বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ের শীর্ষ স্থানগুলোতে ইউরোপীয় ও উত্তর আমেরিকান শহরগুলোর আধিপত্য রয়েছে।
শীর্ষ আন্তর্জাতিক নগরকেন্দ্রগুলোর মধ্যে লন্ডন, প্যারিস, ডাবলিন এবং টোকিওর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি শহর বিশ্বের শীর্ষ দশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। নিউ ইয়র্ক অর্থনৈতিক শক্তির পাশাপাশি মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশগত কর্মক্ষমতা এবং শাসনব্যবস্থার মতো বিষয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত এই সামগ্রিক মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। এই সূচকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকার এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রধান শহুরে অর্থনীতি ও সেগুলোর সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে যাচাই করার একটি আদর্শ কাঠামো প্রদান করে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস এই র্যাংকিংকে ‘ভবিষ্যৎমুখী’ হিসেবে অভিহিত করেছে। কারণ এতে শহরগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ মূল্যায়নের জন্য আদর্শ গুণগত উপাত্তের পাশাপাশি পূর্বাভাসও ব্যবহার করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কের শীর্ষস্থান অর্জন বিশ্ব অর্থনীতিতে এর শক্তিশালী অবস্থানে আরও সুদৃঢ় করেছে। যেখানে অর্থ, সংস্কৃতি ও ব্যবসার ক্ষেত্রে শহরটির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। ৯৮.৮ স্কোর নিয়ে লন্ডন খুব কাছাকাছি ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং ৯৩.৪ পয়েন্ট নিয়ে প্যারিস বিশ্বব্যাপী তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে।



