ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের এনসিটিসি পরিচালকের পদত্যাগ

সংগৃহীত ছবি
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি চিঠির মাধ্যমে তিনি তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পদত্যাগপত্রে জো কেন্ট লিখেছেন,‘অনেক চিন্তাভাবনার পর আমি আজ থেকেই ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চলমান ইরান যুদ্ধকে আমি বিবেকের দিক থেকে সমর্থন করতে পারছি না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না। তার মতে, ইসরায়েল এবং তাদের শক্তিশালী মার্কিন লবির চাপেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে।
জো কেন্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, তিনি সেই সময়কার পররাষ্ট্রনীতির সমর্থক ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আপনি বুঝতেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলো এক ধরনের ফাঁদ, যা আমাদের দেশের দেশপ্রেমিকদের অমূল্য জীবন কেড়ে নেয় এবং আমাদের সম্পদ ও সমৃদ্ধিকে ক্ষয় করে।’
তিনি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রশংসা করে বলেন, আধুনিক কোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে ট্রাম্প ভালোভাবে বুঝেছিলেন কীভাবে অন্তহীন যুদ্ধে না জড়িয়েও কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা বা আইএসআইএসকে পরাজিত করার মাধ্যমে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা যায়।
বর্তমান প্রশাসনের শুরুর দিকের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে কেন্ট অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মার্কিন মিডিয়ার প্রভাবশালী অংশ একটি ভ্রান্ত তথ্য প্রচারণা চালিয়েছে। এই ‘প্রতিধ্বনি-চক্র’ প্রেসিডেন্টকে বিশ্বাস করিয়েছে যে ইরান একটি তাৎক্ষণিক হুমকি এবং দ্রুত বিজয়ের পথ খোলা আছে। কেন্ট একে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ঠিক একই কৌশল ব্যবহার করে আগে ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে হাজারো সৈনিক প্রাণ হারিয়েছেন।
একজন অভিজ্ঞ সৈনিক হিসেবে জো কেন্ট ১১ বার যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি একজন ‘গোল্ড স্টার’ স্বামী, যিনি তার প্রিয় স্ত্রী শ্যাননকে হারিয়েছেন। কেন্টের মতে, শ্যাননের মৃত্যু হয়েছিল এমন এক যুদ্ধে যা ইসরায়েলের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি বলেছেন, ‘আমি এমন একটি যুদ্ধে নতুন প্রজন্মকে পাঠানোর সমর্থন করতে পারি না, যা আমেরিকান জনগণের কোনো উপকারে আসে না এবং যার জন্য জীবন দেওয়ার কোনো ন্যায্যতা নেই।’
চিঠির শেষ অংশে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে গভীরভাবে ভাবার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘এখনই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। আপনি চাইলে এই পথ পরিবর্তন করে আমাদের জাতির জন্য নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারেন, অথবা আমাদের আরো অবনতির ও বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে দিতে পারেন। সিদ্ধান্ত আপনার হাতেই।’




