মেডিকেল শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ

মেডিকেল শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ। ছবি: আগামীর সময়
রংপুরে কলেজছাত্রী নুজশাত জাহানের মৃত্যুর ঘটনায় করা হয়েছে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে মেডিকেল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিন। তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মেডিকেল মোড়ে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে মামলাটি ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে, তা প্রত্যাহার ও সাকিনের মুক্তির দাবি জানান তারা। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে ব্যাহত হয় যান চলাচল। পরে পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, একতরফা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মেডিকেল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনকে। তাদের মতে, অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। কেবল প্রাইভেট টিউটর হওয়ার কারণে হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে কলেজছাত্রীর মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাকিনের গ্রেপ্তারের ছবি প্রকাশেরও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা।
রংপুর মেডিকেল কলেজের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. কবির বলেন, ‘আমাদের একজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে গেল পুলিশ। তারপর এজাহারের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার দেখালো, এটা হতে পারে না। এজাহার করলেই যে কাউকে তুলে নেওয়া যায়, এটা করা যাবে না। সুষ্ঠু তদন্ত করে তথ্য-প্রমাণ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন কথা বলেছে। তাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা আজকের মতো শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছি। তারা বলেছে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাকিনের মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে পুলিশ। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটির আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় পুলিশ সাকিনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়টি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বলেছি আমরা। ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই ওই মেডিকেল শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
সোমবার বিকেলে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোড এলাকার হোটেল নর্থ ভিউয়ের ছাদের রেলিং থেকে পড়ে নুজশাত জাহানের মৃত্যু হয়। তিনি নগরীর খলিফাপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে নুজশাতের পরিবার। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে প্রাইভেট টিউটর শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনসহ অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন তার বাবা। ওই মামলায় মঙ্গলবার বিকেলে সাকিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।




