অবৈধ সম্পদের মামলায়
বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও চারজনের সাক্ষ্য

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আরও চারজন। ১১ কোটি টাকার বেশি সম্পদ তিনি অবৈধভাবে অর্জন করেছেন, সে অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলা করেছিলেন দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ ছিল মামলার শুনানি। সেখানেই বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন চার সাক্ষীর সাক্ষ্য নেন। এ নিয়ে মামলাটিতে ২৮ জনের মধ্যে আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। পরে আগামী ১ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করে দেন বিচারক।
গতকাল যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা হলেন নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সোহেল মিয়া, সোনারগাঁয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস ও দুদকের উপপরিচালক সিরাজুল হক।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানালেন এসব তথ্য।
এর আগে গত ৩ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বেনজীরের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিল দুদক। ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় ছাড়া নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ছাড়া বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে দুই মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি স্ত্রী জীশান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের আলাদা তিন মামলায় তাকে সহযোগী আসামি করা হয়। বর্তমানে এসব মামলার তদন্ত চলছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে থেকেও নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী দেখিয়ে পাসপোর্ট তৈরির ঘটনায় বেনজীর আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।




